২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ:

প্রকাশিত: ২১:৩৩, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নাসিকে রাজনৈতিক প্রশাসক: সাখাওয়াতের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ

নাসিকে রাজনৈতিক প্রশাসক: সাখাওয়াতের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ

আওয়ামী লীগ পতনের পর সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সরকার গঠনের ছয় দিনের মাথায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক)-এর প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে।

২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর টানা তিনবারের নির্বাচিত মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী-কে অপসারণ করে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। পরে অতিরিক্ত সচিব এএইচএম কামরুজ্জামানকে নাসিকের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাকে বদলি করে যুগ্ম সচিব আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে নতুন প্রশাসক করা হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দুই প্রশাসকের দায়িত্ব পালনের পর এবার রাজনৈতিক নেতাকে এই পদে নিয়োগ দেওয়ায় বিষয়টি বিএনপির জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি। আইনজীবী ফোরামের নেতৃত্বও দিয়েছেন তিনি। আলোচিত সাতখুন মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে পরিচিতি পান।

২০১৬ সালে দ্বিতীয় নাসিক নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। তবে সেবার ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে পরাজিত হন। ২০১৮ সালে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও প্রাথমিকভাবে তার নাম আলোচনায় এলেও শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পান অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। মনোনয়ন না পাওয়ার পর নাসিক প্রশাসক হিসেবে তার নিয়োগকে অনেকেই রাজনৈতিক মূল্যায়ন হিসেবে দেখছেন।

বর্তমানে নাসিক যানজট, গণপরিবহন সংকট, হকার সমস্যা, সুপেয় পানির ঘাটতি, সীমানা নির্ধারণ, ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত। জুলাই অভ্যুত্থানের পর সংস্থাটির ভেতরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিও বিরাজ করছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ থমকে আছে। এই বাস্তবতায় দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে সাখাওয়াত হোসেন খানকে। প্রশাসক হিসেবে তার ভূমিকা আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ব্যক্তি সাখাওয়াত ও বিএনপি—উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে তার অগ্রাধিকার নিয়ে কথা বলার সময় বিষয়টিও উঠে এসেছে।  সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন,
“নারায়ণগঞ্জ বর্তমানে অত্যন্ত সমস্যা-সংকুল একটি মহানগরী। এখানে রাস্তাঘাট একেবারে ভাঙাচোরা। যানজট এত বেশি যে ঢাকাতেও এত যানজট নেই।”

তিনি আরও বলেন,“নারায়ণগঞ্জ এখন যেন একটি অটোরিকশার শহরে পরিণত হয়েছে। মানুষ কোথাও স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারে না। স্বাস্থ্যগত অবস্থাও খুব খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে।”

অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রথমেই ভাঙা রাস্তাঘাট মেরামত, ধুলাবালি থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করা, হকার ও অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ এবং যানজট সমস্যার সমাধানকে আমি অগ্রাধিকার দেব। এজন্য আমি ৫০ থেকে ৬০ দিনের একটি কর্মসূচি হাতে নেব। এই সময়ের মধ্যেই সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।”

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নারায়ণগঞ্জে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিএনপির একাধিক ত্যাগী নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশী হবেন। সেই তালিকায় সাখাওয়াত হোসেন খান নিজেও রয়েছেন। অন্যদিকে বিরোধী জোটের প্রভাবশালী নেতারাও মেয়র পদে প্রার্থী হতে পারেন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকেই ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৎপরতা শুরু করেছেন। ফলে নির্বাচনের আগেই নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সাখাওয়াত হোসেন খানকে অত্যন্ত সতর্কভাবে ও চাপের মধ্যে কাজ করতে হবে। তার প্রতিটি সিদ্ধান্ত, পদক্ষেপ ও কার্যক্রম নজরদারিতে থাকবে। ইতিবাচক-নেতিবাচক সব বিষয় নিয়েই আলোচনা-সমালোচনা হবে। এসব বিষয় প্রতিদ্বন্দ্বীরা ভবিষ্যৎ নির্বাচনে তার ও তার দলের বিপক্ষে জনমত তৈরিতে ব্যবহার করতে পারে।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি নাসিক গঠনের পর প্রথমবারের মতো সাখাওয়াত হোসেন খানকে রাজনৈতিক প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বুধবার সকালে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। ক্লিন ইমেজের রাজনীতিক হিসেবে তার পরিচিতি থাকলেও প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর তা কতটা অটুট থাকে—এখন সেটাই দেখার বিষয়।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়