ফতুল্লায় অপহরণ করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবি: একজন গ্রেফতার
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে এক যুবককে নির্যাতনের অভিযোগে আবুল কালাম মুরাদকে (৩৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে দেশীয় তৈরি একটি ধারালো চাপাতি, একটি প্লাস ও একটি লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়।
তবে অপহরণকারী চক্রের মূলহোতা জুয়েল পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পুলিশ জানায়, অপহরণকারীদের কবল থেকে নির্যাতনের শিকার পারভেজকে (৩০) উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারের পর আহত অবস্থায় তাকে খানপুর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
সোমবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে পুলিশ ফতুল্লা মডেল থানার মাসদাইর এলাকার রংপুর হাউজের সাততলা ভবনের ছাদে অবস্থিত জুয়েলের মালিকানাধীন একটি কক্ষে অভিযান চালায়। স্থানীয়ভাবে কক্ষটি ‘টর্চার সেল’ হিসেবে পরিচিত। সেখান থেকেই আহত অবস্থায় পারভেজকে উদ্ধার এবং আবুল কালাম মুরাদকে গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে বিকেল ৩টার দিকে অপহৃত পারভেজের বোন শিখিল বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তার ভাইকে অপহরণ করে আটকে রেখে মারধরের মাধ্যমে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছিল।
পুলিশ আরও জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারী চক্রের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। অভিযানের সময় জুয়েল পালিয়ে গেলেও তার সহযোগী মুরাদকে আটক করা সম্ভব হয়। অভিযানে ব্যবহৃত নির্যাতনের সরঞ্জাম হিসেবে একটি চাপাতি, একটি প্লাস ও একটি লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, পারভেজ পাগলা এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে একটি দোকানে চাকরি করতেন। গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টার পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে জানানো হয়, জুয়েল ও মুরাদ তাকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করছে এবং মুক্তিপণ দাবি করছে।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মান্নান বলেন, পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে দুদিন আগে বিকেলে পাগলা এলাকা থেকে কৌশলে পারভেজকে অপহরণ করে মাসদাইর এলাকার নিজ বাড়ির সাততলা ভবনের ছাদের একটি কক্ষে আটকে রেখে নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবি করা হয়। অভিযোগ দায়েরের আট ঘণ্টার মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে পারভেজকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য খানপুর হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং একজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। জড়িত অপর আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।





































