‘ভোটারদের হুমকি ফৌজদারি অপরাধ’, ইসির হস্তক্ষেপ দাবি অঞ্জন দাসের
গণসংহতি আন্দোলন মনোনীত নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের ‘মাথাল’ প্রতীকের প্রার্থী ও গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার নির্বাহী সমন্বয়কারী, গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপ্রধান অঞ্জন দাস ভোটারদের নজরদারি ও প্রতিশোধের হুমকির ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, গত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের ছোট সাদিপুর এলাকায় নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলামের নির্বাচনী উঠান বৈঠকে সোনারগাঁ থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা বাংলাদেশের সংবিধান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি ও দ-বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
অঞ্জন দাস বলেন, উক্ত ব্যক্তি প্রকাশ্যে ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, কে কোন প্রতীকে ভোট দিচ্ছে তা ‘মার্ক করা হবে’, ভোটারদের ওপর ‘গোয়েন্দা লাগানো হয়েছে’ এবং নির্বাচন শেষে অন্য প্রতীকে ভোট পড়লে ‘কোনো রেহাই থাকবে না’। এসব বক্তব্য সরাসরি ভোটারদের স্বাধীন ভোটাধিকার, ভোটের গোপনীয়তা এবং মত প্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার হরণের হুমকি।
তিনি বলেন, “এ ধরনের ভাষা কেবল রাজনৈতিক অসৌজন্য নয়; এটি পরিকল্পিত ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিশোধের ঘোষণা, যা সরাসরি ফৌজদারি অপরাধের আওতায় পড়ে।”
অঞ্জন দাস আরও বলেন, “একজন প্রার্থীর পক্ষে দাঁড়িয়ে যদি কেউ প্রকাশ্যে ভোটারদের ওপর নজরদারি, তালিকা তৈরি ও শাস্তির হুমকি দেয়, তবে তা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ ধ্বংস করার শামিল। ভোটারদের বোঝানো হচ্ছে তারা স্বাধীন নন, তারা নজরদারির আওতায়- এটি গণতন্ত্র নয়, এটি ভয়ভিত্তিক দমননীতি।”
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, উক্ত বক্তব্য বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলামের একজন সমর্থক ও দলীয় পদধারী ব্যক্তি দিয়েছেন। কোনো প্রার্থী নিজে এ বক্তব্য না দিলেও তার পক্ষে কর্মরত ব্যক্তির এ ধরনের কর্মকা-ের রাজনৈতিক ও আইনগত দায় সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর ওপর বর্তায়। নির্বাচনী আইনে প্রার্থীর পক্ষে সংঘটিত কার্যকলাপের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।
অঞ্জন দাস নির্বাচন কমিশন, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে ঘটনার স্বতঃপ্রণোদিত তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ভোটারদের জন্য ভয়মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, “ভোট জনগণের মৌলিক অধিকার। কোনো দলীয় নেতা, কর্মী বা প্রভাবশালী ব্যক্তি ভয় দেখিয়ে এই অধিকার কেড়ে নিতে পারবে না। হুমকির মাধ্যমে নয়, জনগণের রায়েই নির্বাচনের ফয়সালা হবে।”





































