যানজটমুক্ত আধুনিক নগর গড়ার প্রতিশ্রুতি মাকসুদের
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ‘ফুটবল’ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেন তার নির্বাচনি ইশতেহারে বলেছেন, “নারায়ণগঞ্জ শহর ও বন্দরের দীর্ঘদিনের প্রধান সমস্যা যানজট নিরসনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। সেই সাথে চাষাঢ়া, দেওভোগ ও বন্দর কদমরসুলসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ফ্লাইওভার নির্মাণ ও ফুটওভার ব্রিজ তৈরির মাধ্যমে যানজট সহনীয় পর্যায়ে আনা হবে।”
“লাঙ্গলবন্দে গত সরকারের আমলে এই ঐতিহ্যবাহী তীর্থস্থানকে কেন্দ্র করে নেওয়া উন্নয়ন প্রকল্পগুলো অপরিকল্পিত হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। আমি নির্বাচিত হলে লাঙ্গলবন্দকে পুনরায় পর্যটন এলাকা হিসেবে ঘোষণা দিয়ে আধুনিক ও পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে মানুষের কষ্ট লাঘব করবো।”
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে বন্দর উপজেলা পরিষদে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ আইন-শৃঙ্খলা সভায় তিনি ইশতেহার পাঠ করেন।
মাকসুদ হোসেন তার নির্বাচনী ইশতেহারে ফুটপাত দখলমুক্ত করে পথচারী-বান্ধব শহর গড়া এবং ভ্রাম্যমাণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারি জায়গায় পৃথক মার্কেট গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
অবকাঠামো উন্নয়নে তিনি মদনগঞ্জ থেকে মদনপুর সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানান। আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং জনগণের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করাকেও তার ইশতেহারে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
‘নারায়ণগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ’ উল্লেখ করে মাকসুদ হোসেন বলেন, নির্বাচিত হলে সংসদে আমার প্রথম কাজ হবে নারায়ণগঞ্জ শহরে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণের দাবি জোরালোভাবে উত্থাপন করা। এ ছাড়া প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিককে জনবান্ধব করা এবং সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন তিনি। কারিগরি শিক্ষার প্রসারে বন্দর সদরে একটি আইটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণাও দেন এই প্রার্থী।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় তিনি কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, মাদক, কিশোর গ্যাং এবং ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে কোনো আপস করা হবে না। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। নদী ও পরিবেশ রক্ষায় শীতলক্ষ্যা ও ব্রহ্মপুত্র নদীকে দখল ও দূষণমুক্ত করতে সংসদীয় উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও ফুটে ওঠে তার ইশতেহারে।
বন্দর উপজেলা ইউএনও ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার শিবানী সরকারের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মো. রায়হান কবির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী, জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন, সেনাবাহিনীর মেজর আয়াজ আব্দুল্লাহ, আনসারের জেলা কমান্ড্যান্ট কানিজ ফারজানা শান্তা, বন্দর ইউএনও শিবানী সরকারসহ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।





































