প্রতিটি থানায় নারী সুরক্ষা সেল স্থাপন করবো: মাসুম বিল্লাহ
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি মাসুম বিল্লাহ বলেছেন, “নারায়ণগঞ্জের বন্দর-সদরে একটি পারাপারের ব্রিজ দীর্ঘদিন ধরেই মানুষের দাবি। আমরা দেখছি, প্রতি নির্বাচনে সবাই এই ব্রিজের কথা বলে ভোট চায়, কিন্তু বাস্তবে কিছুই হয় না। বর্তমানে যে ব্রিজের কাজ চলমান রয়েছে, আমরা সেটিকে যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা, পরামর্শ ও নজরদারির মাধ্যমে ভূমিকা রাখবো ইনশাআল্লাহ।”
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বন্দর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বিশেষ আইন-শৃঙ্খলা সভায় নিজের নির্বাচনী ইশতেহার উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জের সড়ক অবকাঠামো চরমভাবে অবহেলিত। রাস্তাগুলোর দুরবস্থা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এগুলো সংস্কার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে চলাচলের উপযোগী করা হবে।”
নদী দূষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শীতলক্ষ্যা নদী নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্য ও প্রাণ। এক সময় এই নদীর পানি পবিত্রতা ও স্বচ্ছতার জন্য পরিচিত ছিল। আজ সেই পানি খাওয়া তো দূরের কথা, অজু বা গোসল করলেও চুলকানি ও রোগ হয়। আমরা শীতলক্ষ্যা নদীকে পুনরুজ্জীবিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো, যাতে নদী আবার মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ও উপকারী হয়ে ওঠে।”
যানজট প্রসঙ্গে মুফতি মাসুম বিল্লাহ বলেন, “নারায়ণগঞ্জে যানজট একটি বড় সমস্যা। আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যা অনেক বেড়ে যাওয়ায় এই সংকট তীব্র হয়েছে। পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা ও বিকল্প উদ্যোগের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জকে যানজটমুক্ত ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলা হবে।”
রাষ্ট্র পরিচালনা বিষয়ে তিনি বলেন, “ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মূল নীতি হলো রাষ্ট্র পরিচালনায় সর্বোচ্চ শরীয়াহর প্রাধান্য। ইসলাম এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে সব ধর্ম, বর্ণ ও মতের মানুষ নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক জীবনযাপনের সুযোগ পায়। পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই সনদের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা থাকবে। অর্থনৈতিক সাম্য, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিজ্ঞানভিত্তিক নৈতিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু, আর্থিক, সামরিক ও কূটনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনে আমরা কাজ করবো। সর্বোপরি সুশাসন প্রতিষ্ঠাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রতিটি থানায় নারীর সুরক্ষা সেল স্থাপন, ইভটিজিং প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি বাসস্ট্যান্ডে নারীদের জন্য আলাদা টয়লেট, অজুখানা ও নামাজের স্থান নিশ্চিত করা হবে।”
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাত নিয়ে তিনি বলেন, “মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জোরপূর্বক চাঁদাবাজি ও অনৈতিক অর্থ আদায় বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হবে।”
শেষে তিনি বলেন, “জুলাই-পরবর্তী সংকটময় পরিস্থিতি কাটিয়ে একটি সুন্দর, নিরাপদ ও সন্ত্রাসমুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়তে আমরা আপনাদের সহযোগিতা চাই। চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত নগর গড়তে হাতপাখার পাশে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।”





































