নিরাপদ ও ব্যবসা-বান্ধব নগর গড়ার প্রতিশ্রুতি সিরাজুল মামুনের
নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর ও বন্দর) আসনকে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও ব্যবসাবান্ধব আধুনিক নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন খেলাফত মজলিস মনোনীত ও ১০ দলীয় জোট সমর্থিত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এবিএম সিরাজুল মামুন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে বন্দর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ আইন-শৃঙ্খলা সভায় তিনি এ ইশতেহার ঘোষণা করেন।
ইশতেহার ঘোষণাকালে এবিএম সিরাজুল মামুন বলেন, “২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করা হবে। এই সনদের আলোকে বৈষম্যহীন, ইনসাফভিত্তিক ও কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় আমরা কাজ করবো।”
তিনি জানান, দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়তে সংসদ সদস্যের কার্যালয়কে ২৪ ঘণ্টা খোলা নাগরিক সেবা কেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে। এ লক্ষ্যে ‘হ্যালো এমপি’ হটলাইন চালু করা হবে, যাতে জরুরি প্রয়োজনে জনগণ সরাসরি যোগাযোগ করতে পারে। পাশাপাশি উন্নয়ন তহবিলের সব ব্যয়ের তথ্য অনলাইনে প্রকাশ করা হবে।
দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের মানুষের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “শোষণ ও দারিদ্রমুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়তে সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প চালু করা হবে। যাকাত ও অনুদানের মাধ্যমে বিশেষ তহবিল গঠন করে এতিম, অসহায়, বস্তিবাসী ও প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর সহায়তা জোরদার করা হবে।”
নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে শিশু শ্রম বন্ধে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় করা হবে।”
পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব নগরী গড়ার পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, মশা, আবর্জনা, শব্দ ও বায়ুদূষণ রোধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। কাঁচাবাজারগুলোকে পরিকল্পিতভাবে আধুনিক মডেল বাজারে রূপান্তর করা হবে।
জলাবদ্ধতা ও যানজট প্রসঙ্গে এবিএম সিরাজুল মামুন বলেন, “সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন, ডিজিটাল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, ফুটওভার ব্রিজ ও আন্ডারপাস নির্মাণের মাধ্যমে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে।”
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নের অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে। পাশাপাশি টেকনিক্যাল কলেজ স্থাপন, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি এবং আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।
ব্যবসাবান্ধব নগর গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, ট্রেড লাইসেন্সসহ সব নাগরিক সেবা সহজ করতে ওয়ান স্টপ সার্ভিস বুথ চালু করা হবে। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য পৃথক তহবিল গঠন এবং ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সভায় বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার শিবানী সরকার সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মো. রায়হান কবির।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী, জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন, সেনাবাহিনীর মেজর আয়াজ আব্দুল্লাহ, আনসারের জেলা কমান্ড্যান্ট কানিজ ফারজানা শান্তা, বিজিবির সহকারী পরিচালক জিয়াউর রহমানসহ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা।





































