নারায়ণগঞ্জে বাসদের বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়ার দেশবিরোধী পরিকল্পনা বাতিলের দাবিতে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সদস্যসচিব আবু নাঈম খান বিপ্লব। সমাবেশ শেষে শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, বাসদ ফতুল্লা থানা শাখার সদস্যসচিব এস এম কাদির, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আক্তার, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক প্রদীপ সরকার এবং গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট জেলার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ।
বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের প্রবেশদ্বার। এর আশপাশে নৌবাহিনীর ঘাঁটি, তেল শোধনাগার ও বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর কৌশলগত স্থাপনা রয়েছে। এমন অবস্থায় বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দিলে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, এনসিটি একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান। এই টার্মিনালের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি গ্যান্ট্রি ক্রেন রয়েছে এবং নিজেদের অর্থায়নেই এই টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিবছর এখান থেকে এক হাজার কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব আয় হয়। তা সত্ত্বেও কেন বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দিতে হবে—এর কোনো সদুত্তর সরকারের কাছে নেই।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ডিপি ওয়ার্ল্ড কোম্পানির সঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনীর চুক্তি রয়েছে। ফলে এই কোম্পানি যেখানে বন্দর পরিচালনা করে, সেখানে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ নোঙর, রিফুয়েলিং ও মেরামতের সুযোগ পায়। তাদের মতে, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া মানে পরোক্ষভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও প্রতিরক্ষা নজরদারির সুযোগ সৃষ্টি করা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকার ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থে জাতীয় স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় ছিল। আর বর্তমান সরকার মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থে দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিচ্ছে। এর উদাহরণ হিসেবে তারা আমেরিকার সঙ্গে গোপন চুক্তির অভিযোগ তুলে বলেন, এর ফলে দেশকে বেশি দামে গম, এলএনজি কিনতে হচ্ছে এবং বিভিন্ন সামরিক ও বাণিজ্যিক চাপে পড়তে হচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ আরও অভিযোগ করেন, লালদিয়ার চর ও পানগাঁও টার্মিনাল ইতোমধ্যে ডেনমার্ক ও সুইজারল্যান্ডের কোম্পানির কাছে গোপনে ইজারা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনের মাত্র ১২ দিন আগে এনসিটি ইজারা চুক্তি এবং নির্বাচনের ছয় দিন আগে জাপানের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ দেশকে বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেবে।
বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার অনির্বাচিত হওয়ায় জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আন্তর্জাতিক চুক্তি করার কোনো এখতিয়ার তাদের নেই। নির্বাচন তফসিল ঘোষণার পর সরকারের দায়িত্ব কেবল রুটিন কাজ পরিচালনা ও নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করা—এর বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ সাংবিধানিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
সমাবেশ থেকে বিদেশি সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সঙ্গে সম্পাদিত সব চুক্তি জনসম্মুখে প্রকাশ এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি বাতিলের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার পরিকল্পনা থেকে সরকারকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।





































