২৯ জানুয়ারি ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ:

প্রকাশিত: ২০:৫৮, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

অভিজ্ঞদের ভিড়ে ভোটের মাঠে নজর কাড়ছেন তরুণরা

অভিজ্ঞদের ভিড়ে ভোটের মাঠে নজর কাড়ছেন তরুণরা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেশিদিন বাকি না থাকায় নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন প্রার্থীরা। প্রতিদিনই গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তারা। তবে এবারের নির্বাচনী মাঠে এক নজরে স্পষ্ট একটি পরিবর্তন চোখে পড়ছে- দীর্ঘদিনের রাজনীতির মাঠে অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী প্রার্থীদের ভিড়ে তরুণ প্রার্থীরা নতুন ধারায় সক্রিয় আছেন।

এই তরুণরা কেবল প্রচলিত পোস্টার-ব্যানার, মাইকিং বা উঠান বৈঠকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নন; বরং স্থানীয় সমস্যা, নাগরিক সেবা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নকে সামনে রেখে অভিনব পদ্ধতিতে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সরাসরি মতবিনিময় এবং তরুণ ভোটারদের সম্পৃক্ততাকে এদের প্রচারণায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তিত প্রচারণা ভোটারদের মনোভাবেও প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে তরুণ ও নতুন ভোটারদের মাঝে।

ছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বেও

এই তরুণদের একটি বড় অংশ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সক্রিয় যোদ্ধা। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনে তাঁরা সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। গণঅভ্যুত্থানের পর তারা নতুন ধরনের রাজনৈতিক চর্চা ও অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। এই রাজনৈতিক সচেতনতা ও আন্দোলন-অভিজ্ঞতা তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় স্পষ্ট প্রভাব ফেলছে। ফলে ভোটারদের কাছে তারা স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বাসযোগ্যতা ও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছেন।

নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে তরুণ প্রার্থীদের সক্রিয়তা নজর কাড়ছে। এর মধ্যে গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী তারিকুল ইসলাম সুজন দীর্ঘদিন ধরেই নগর জীবনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সরব। জলাবদ্ধতা, যানজট, বেকারত্ব, ডেঙ্গু, মাদক ও সন্ত্রাসসহ শহরের মৌলিক সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি নিয়ে তিনি ভোটারদের কাছে পৌঁছাচ্ছেন।

তার প্রচারণার ভিন্নতার অন্যতম উদাহরণ- ‘হাতের মুঠোয় এমপি’ নামে একটি সিটিজেন কানেক্টেড অ্যাপ। এই অ্যাপের মাধ্যমে ভোটাররা ঘরে বসেই তাদের সমস্যা, অভিযোগ ও প্রস্তাব সরাসরি এমপির দপ্তরে জানাতে পারবেন। সুজনের ভাষ্য, এতে জনপ্রতিনিধি ও জনগণের মধ্যকার দূরত্ব কমবে এবং দ্রুত সেবা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

এ ছাড়া তিনি ভোরে ফজরের নামাজে অংশগ্রহণ, নামাজ শেষে ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় উপস্থিতির মাধ্যমে প্রচারণায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করছেন।

এ আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী নাহিদ হোসেনও তরুণদের মধ্যে পরিচিত মুখ। তরুণ স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ও নিয়মিত মাঠে থাকার কারণে তিনি ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। পেশায় প্রকৌশলী এ তরুণ রাজনীতিক গণঅধিকার পরিষদের জেলা কমিটিরও প্রধান। ফলে, দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যেও তার রয়েছে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে তরুণ প্রার্থী হিসেবে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আব্দুল্লাহ আল আমিন। গণঅভ্যুত্থানের এ সংগঠক নতুন প্রজন্মের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ সৃষ্টি করেছেন। তিনি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোট-সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।

তার নির্বাচনী প্রচারণায় একদিকে তরুণদের উচ্ছ্বাস ও সক্রিয় অংশগ্রহণ, অন্যদিকে ইসলামিক রাজনীতির নেতৃবৃন্দ ও প্রবীণ রাজনীতিবিদদের সম্পৃক্ততার সমন্বয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই বহুমাত্রিক উপস্থিতি তার প্রচারণাকে আলাদা বৈশিষ্ট্য দিচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে নজর কাড়ছেন গণঅধিকার পরিষদের ওয়াহিদুর রহমান মিল্কী ও গণসংহতি আন্দোলনের অঞ্জন দাস। ওয়াহিদুর মিল্কী দলটির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এবং সোনারগাঁয়ের দীর্ঘদিন সক্রিয় ব্যবসায়ী নেতা। অঞ্জন দাস শ্রমিক রাজনীতিতে দীর্ঘ সম্পৃক্ততা, খেটে খাওয়া মানুষের পাশে থাকা এবং সামাজিক ইস্যুতে ধারাবাহিক অবস্থানের কারণে ভোটারদের কাছে পরিচিত।

নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে একমাত্র তরুণ মুখ হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন গণঅধিকার পরিষদের ওয়াসিম উদ্দিন। সাতজন প্রার্থীর মধ্যে হেভিওয়েট প্রার্থীদের বিপক্ষে তার সাহসী বক্তব্য ও মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা ভোটারদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এই নির্বাচনে তরুণ প্রার্থীরা হেভিওয়েটদের ভিড়ে কেবল নতুন দৃষ্টি ও প্রচারণার ধরনই আনেনি; বরং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, সমস্যা নিরূপণ এবং সমাধানের প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে রাজনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছেন।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়