নারায়ণগঞ্জের কয়েকটি আসনে
হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ফ্যাক্টর হতে পারে পোস্টাল ব্যালট ভোট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের কিছু আসনে ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে পোস্টাল ব্যালটের ভোটাররা। ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে জেলায় নিবন্ধিত পোস্টাল ব্যালট ভোটারের সংখ্যা এবার নির্বাচনী সমীকরণে নতুন বাস্তবতা তৈরি করতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ জেলায় মোট ২৪ হাজার ২৬০ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে ২৪ হাজার ১৩৩ জন ভোটারের আবেদন অনুমোদন পেয়েছে। অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন ১২৭ জন ভোটার।
অনুমোদিত ভোটারদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৯ হাজার ২ জন এবং নারী ভোটার ৫ হাজার ২৫৮ জন।
আসনভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ–১ আসনে মোট ৩ হাজার ৫৩৭ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ হাজার ৭৭৫ জন এবং নারী ভোটার ৭৬২ জন। এ আসনে পোস্টাল ব্যালটের জন্য আবেদন করা ৩ হাজার ৫২৬ জন ভোটারের আবেদন অনুমোদন পেয়েছে। অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন ১১ জন ভোটার।
নারায়ণগঞ্জ–২ আসনে পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধন করেছেন মোট ৪ হাজার ৫০৫ জন ভোটার। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ হাজার ৫৬৫ জন এবং নারী ভোটার ৯৪০ জন। এ আসনে অনুমোদিত ভোটারের সংখ্যা ৪ হাজার ৫০০ জন। অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন ৫ জন ভোটার।
নারায়ণগঞ্জ–৩ আসনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন সবচেয়ে বেশি। এ আসনে মোট নিবন্ধিত ভোটার ৬ হাজার ৬০৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ হাজার ২৫৫ জন এবং নারী ভোটার ১ হাজার ৩৫৪ জন। ইসি তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে পোস্টাল ব্যালটের জন্য আবেদন করা ৬ হাজার ৫৮০ জন ভোটারের আবেদন অনুমোদন পেয়েছে এবং অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন ২৯ জন ভোটার।
নারায়ণগঞ্জ–৪ আসনে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে মোট ৪ হাজার ৭৪৩ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ হাজার ৭৯৭ জন এবং নারী ভোটার ৯৪৬ জন। এ আসনে অনুমোদন পেয়েছেন ৪ হাজার ৭২২ জন ভোটার। এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন ২১ জন ভোটার।
এই আসনটিতে অতীতের নির্বাচনী ইতিহাসও পোস্টাল ব্যালটের গুরুত্বকে সামনে নিয়ে আসে। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ–৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী, চিত্রনায়িকা কবরী মাত্র ২ হাজার ৩৮৯ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছিলেন। ওই নির্বাচনে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির মোহাম্মদ শাহ আলম। বিশ্লেষকদের মতে, এমন কম ব্যবধানের আসনে কয়েক হাজার পোস্টাল ব্যালট ভোট এবারের নির্বাচনে ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
নারায়ণগঞ্জ–৫ আসনে পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ৪ হাজার ৮২১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ হাজার ৫৭৪ জন এবং নারী ভোটার ১ হাজার ২৪৭ জন। এ আসনে অনুমোদন পেয়েছেন ৪ হাজার ৮০৫ জন ভোটার। অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন ১৬ জন ভোটার।
ইসি সূত্র জানায়, পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে রয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশি, নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নিজ নিজ ভোটার এলাকার বাইরে অবস্থানরত সরকারি চাকরিজীবীরা। ফলে ভোটের দিন কেন্দ্রে উপস্থিত হতে না পারলেও তারা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের কয়েকটিতে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব আসনে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান কম হলে কয়েক হাজার পোস্টাল ব্যালট ভোট ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে প্রবাসী ভোটার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের ভোট একত্রে একটি দৃশ্যমান ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।





































