১০ জানুয়ারি ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২১:৫৯, ৯ জানুয়ারি ২০২৬

সিরাজীকে নিয়ে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের’ অভিযোগ

সিরাজীকে নিয়ে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের’ অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি ইসমাইল হোসেন সিরাজীকে বিতর্কিত করতে ‘পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ও বানোয়াট’ তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন দলটির নেতা-কর্মীরা।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলন দাবি করে, অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ তুলে তাদের প্রার্থী ইসমাইল সিরাজীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

দলটির নেতারা বলেন, “সংঘবদ্ধ একটি চক্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া ভিডিও, মনগড়া তথ্য এবং সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মুফতি ইসমাইল সিরাজীকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।”

তারা এটিকে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকার’-এর প্রচেষ্টা বলে উল্লেখ করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, মুফতি ইসমাইল হোসেন সিরাজী দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে এমএএম ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল-এর পরিচালক ও লর্ড ট্র্যাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস-এর চেয়ারম্যান হিসেবে সুনামের সঙ্গে হজ্ব ব্যবস্থাপনা, বিদেশে কর্মসংস্থান ও ভিসা প্রসেসিংসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছেন। প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ বা প্রতারণার কোনো প্রমাণ নেই। প্রতিটি গ্রাহককে নিয়ম অনুযায়ী রশিদ, চেক ও স্ট্যাম্পযুক্ত চুক্তিপত্র প্রদান করা হয় বলে দাবি করা হয়।

দলটির নেতারা বলছেন, মো. আজিজুর রহমান নামের এক ব্যক্তি কানাডা যাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রাথমিকভাবে কিছু অর্থ জমা দেন। পরবর্তীতে প্রসেস বিলম্বিত হলে তিনি অর্থ ফেরত চান। সে সময় দায়বদ্ধতা নিয়ে মুফতি ইসমাইল হোসেন সিরাজী কয়েকটি চেক প্রদান করেন এবং একটি চেকের বিপরীতে এক লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। পরবর্তী সময়ে বাকি অর্থ গ্রহণের জন্য আসতে বলা হলেও আজিজুর রহমান ও তার সহযোগীরা অফিসে এসে উত্তেজক আচরণ, শারীরিক হুমকি ও চাপ সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ করা হয়।

এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর পল্টন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয় বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। পরে পুলিশ পক্ষ থেকে দ্বি-পাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির পরামর্শ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আর যোগাযোগ করেননি। উল্টো বিভিন্ন গণমাধ্যম ও একটি অনুমোদনহীন ফেসবুক পেজে ‘নকি ভিডিও’ শিরোনামে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে মুফতি ইসমাইল হোসেন সিরাজীর দলীয় মনোনয়ন ঠেকাতে অতীতেও দলের শীর্ষ নেতাদের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে আলোচনার জন্য ডাকা হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হননি।

নেতাকর্মীরা বলেন, ব্যবসায়িক লেনদেনে বিরোধ সৃষ্টি হতে পারে, যা আলোচনা ও অফিস পর্যায়ে সমাধানযোগ্য। কিন্তু সেই পথ পরিহার করে সংবাদ সম্মেলন ও অপপ্রচারের মাধ্যমে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করার চেষ্টা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন নিয়ে ইসলামী দলগুলোর বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণের প্রেক্ষাপটে একটি চক্র ইসমাইল হোসেন সিরাজীকে বিতর্কিত করতে সক্রিয় রয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপপ্রচার ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপচেষ্টা রোধে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

এদিকে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ইসলামী আন্দোলনের এ প্রার্থীর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ তুলে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন মাজহারুল ইসলাম নামে ব্যক্তি। নিজের ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, একটি ট্রাভেল এজেন্সির নামে কানাডায় যাওয়ার ‘ট্যুরিস্ট ভিসা’র ব্যবস্থা করে দিবেন দাবি করে ৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও টাকা ফেরত চাওয়াতে আটকে রেখে নির্যাতন করেছেন ইসলামী আন্দোলনের ওই নেতা।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়