রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণ দিবসে চারণের আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সংস্কৃতি শুধু বিনোদনের বিষয় নয়; মানুষের চিন্তা, চেতনা ও মূল্যবোধ গঠনের অন্যতম শক্তি। শোষণ-বৈষম্য, সাম্প্রদায়িকতা, কুসংস্কার ও অমানবিকতার বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ করতে সংস্কৃতিকে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
বক্তারা বলেন, রবীন্দ্রনাথকে কেবল কবি, সাহিত্যিক ও সংগীতস্রষ্টা হিসেবে স্মরণ করলে তাঁর প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো হবে না। তাঁর সাহিত্য, শিক্ষা ও সমাজচিন্তায় থাকা মানবতাবাদ, মুক্তবুদ্ধি, অসাম্প্রদায়িকতা, বিজ্ঞানমনস্কতা ও মানুষের মর্যাদার আকাঙ্ক্ষাকে বর্তমান সমাজ বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করে দেখতে হবে।
রবীন্দ্রনাথের ‘মনুষ্যত্বের শিক্ষাটাই চরম শিক্ষা, আর সমস্তই তার অধীন’—এই উপলব্ধির কথা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, প্রকৃত শিক্ষা মানুষের বিবেক, যুক্তিবোধ, মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বিকশিত করে। অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে শেখায় না—এমন শিক্ষার সামাজিক উদ্দেশ্য অপূর্ণ থেকে যায়।
তাঁরা আরও বলেন, ‘গোরা’, ‘ঘরে-বাইরে’, ‘রক্তকরবী’, ‘গল্পগুচ্ছ’সহ রবীন্দ্রনাথের বিভিন্ন সৃষ্টিতে সমাজ, মানুষ, ক্ষমতা, শোষণ, পরিচয়, স্বাধীনতা ও মুক্তির প্রশ্ন উঠে এসেছে। তাঁর সাহিত্য মানুষের চিন্তার জগৎকে প্রসারিত করেছে এবং সংকীর্ণতা ও বিভাজনের বিরুদ্ধে মানবিকতার পক্ষে দাঁড়ানোর শক্তি জুগিয়েছে।
বক্তারা বলেন, ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনে রবীন্দ্রনাথের ভূমিকা এবং ১৯১৯ সালের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া ‘নাইট’ উপাধি ত্যাগ তাঁর অন্যায় ও ঔপনিবেশিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে নৈতিক অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বর্তমান সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য, বেকারত্ব, সাম্প্রদায়িক বিভাজন, কুসংস্কার ও সাংস্কৃতিক সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে গণমুখী সাংস্কৃতিক আন্দোলন জোরদারের আহ্বান জানান। শ্রমিক-কৃষকসহ সাধারণ মানুষের জীবন ও সংগ্রামকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে নিয়ে আসার পাশাপাশি সাহিত্য, সংগীত, নাটক, আবৃত্তি, পথনাটক ও গণসংগীতের মাধ্যমে মুক্তচিন্তা, বিজ্ঞানমনস্কতা ও অধিকারচেতনা জাগিয়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক প্রদীপ সরকার। সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব জামাল হোসেন। প্রধান আলোচক ছিলেন চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি কামরুজ্জামান ভূইয়া।
আলোচনা করেন নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সহসভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল, প্রগতি লেখক সংঘের সদস্য বিমল কান্তি দাস, সাংস্কৃতিক কর্মী জহিরুল ইসলাম মিন্টু, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম নারায়ণগঞ্জ জেলা সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আক্তার, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম এবং চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য বেলাল হোসাইন প্রমুখ।
বক্তারা রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও মানবতাবাদী চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি শোষণ-বৈষম্য, সাম্প্রদায়িকতা, কুসংস্কার ও অমানবিকতার বিরুদ্ধে গণমুখী সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।





































