সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর ক্ষোভ ঝারলেন মামুন মাহমুদ
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করার ব্যাপারে জোর দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। একইসঙ্গে দায়িত্বে অবহেলা করা সরকারি কর্মচারীদের উপর ক্ষোভও ঝেরেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা উন্নয়ন বিষয়ক সমন্বয় সভায় তিনি এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব নিতে হবে। এখানে পানিসম্পদ অধিদপ্তর রয়েছে, কৃষি বিভাগ রয়েছে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল রয়েছে, সিভিল সার্জন রয়েছেন- তাদের কি কোনো দায়িত্ব নেই? এখানে পরিবেশ অধিদপ্তর রয়েছে, তাদের কি কোনো দায়িত্ব নেই? সবাই তো আছেন, তাহলে দায়িত্ব কে নিতে চান? কেউ কি দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারলেন না যে, আমার অফিসের সামনের জায়গাটা আমি পরিষ্কার করে দেব?”
তিনি আরও বলেন, “একজন বিভাগীয় প্রধান কি বলতে পারলেন না যে, আমার তো স্টাফ রয়েছে? এখানে রোডস অ্যান্ড হাইওয়ের স্টাফ রয়েছে, যাদের রাস্তা পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব। সেই কর্মকর্তাকে ডাকুন, তাঁকে বলুন-আপনার কতজন স্টাফ রয়েছে? তারা প্রতিদিন কোন কোন রাস্তা পরিষ্কার রাখবে? এখানে এলজিইডি প্রকৌশলীকে বলুন যে, আপনার এলজিইডির যেসব জায়গা বা রাস্তা রয়েছে, সে অংশগুলো আপনি পরিষ্কার রাখবেন।”
সভায় মামুন মাহমুদ বলেন, “এভাবে যদি দায়িত্ব নেওয়া না হয়, তবে কোনো দিনই এ দেশ সামনের দিকে এগোবে না। আমরা সবাই যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে ছোট ছোট দায়িত্ব নিই, তাহলে একদিন মহাপরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।”
“প্রধানমন্ত্রী হয়তো একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে ছয়জন জেলা প্রশাসককে (ডিসি) ডেকে তাঁদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন যে, এই শহরগুলোকে কীভাবে বসবাসযোগ্য রাখা যায়। প্রতিদিন যেভাবে আমাদের শহর বা উপজেলাগুলো নোংরা হয়ে যাচ্ছে, সেগুলোকে কীভাবে রক্ষা করা যায় এবং অল্প অল্প করে কীভাবে উন্নতি করা যায়, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। এক দিনে তো আর সিঙ্গাপুরের মতো পরিষ্কার করা সম্ভব হবে না।”
তিনি বলেন, “কেবল স্কুলের ছাত্রদের ওপর চাপিয়ে দিলেও শহর পরিচ্ছন্ন হবে না। প্রতিটি জেলা শহরে সরকারের অন্তত ৬০টি বিভাগ বা দফতর রয়েছে। উপজেলাগুলোতেও রয়েছে বিভিন্ন সরকারি বিভাগ। পাশাপাশি রেড ক্রিসেন্ট, স্কাউট, রোভার স্কাউটস ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে পারে।”
ডাম্পিং স্টেশনের সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ডাম্পিং স্টেশন নেই। এটি প্রায় অধিকাংশ উপজেলাতেই নেই। এগুলো তৈরি করতে পর্যাপ্ত জায়গা ও অর্থ বরাদ্দ প্রয়োজন, যা একটি মহাপরিকল্পনার বিষয়।”
তিনি আরও বলেন, “আজ থেকেই যদি স্কুলের শিক্ষকরা ছাত্রদের সচেতন করতে পারেন যে, তারা নিজেদের স্কুলের আঙিনা ও সামনের অংশ পরিষ্কার রাখবে, তাহলে সেটি সম্ভব। এর জন্য কোনো মহাপরিকল্পনার প্রয়োজন নেই। একটি স্বেচ্ছাসেবী টিম ও স্কাউটই এ কাজ করতে পারে।”
অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আগেই ঘোষণা দিয়েছেন, সারা দেশে এক লাখ ভলান্টিয়ার তৈরি করতে হবে। সে অনুযায়ী প্রতিটি বিভাগ ও রেড ক্রিসেন্ট কাজ করছে। নারায়ণগঞ্জেও বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ থেকে ভলান্টিয়ার তৈরি করে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।”
জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সিফাত উদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজীব, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আলীনূর খান, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, বিকেএমই’র সহসভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল, নাসিকের নগর পরিকল্পনাবিদ মো. মঈনুল ইসলাম, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম ফয়েজ উদ্দিন প্রমুখ।





































