১১ জুলাই ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৯:২৪, ১১ জুলাই ২০২৬

আপডেট: ১৯:৩১, ১১ জুলাই ২০২৬

অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে দেওভোগ মাদ্রাসায় আবারও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে দেওভোগ মাদ্রাসায় আবারও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগে অবস্থিত জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবু তাহের জিহাদীর পদত্যাগের দাবিতে আবারও বিক্ষোভ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির একাংশের শিক্ষার্থীরা। শনিবার (১১ জুলাই) সকালে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ সমাবেশ করে তারা। দাবি বাস্তবায়ন না হলে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ মাদ্রাসার সব কার্যক্রম স্থগিত করার হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা।

অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মাদ্রাসার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অধ্যক্ষ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রতিষ্ঠানে একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি নিজের মেয়ের জামাতাসহ নিকটাত্মীয়দের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন এবং ভিন্নমত পোষণকারী শিক্ষকদের কোণঠাসা করে রেখেছেন। এছাড়া প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র ১৫টি অচল টয়লেট, নিম্নমানের খাবার, জরাজীর্ণ রান্নাঘরসহ বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার অভিযোগও তুলে ধরেন তারা।

দাওরা জামাতের শিক্ষার্থী আবুজার মোহাম্মদ বলেন, “আমাদের আন্দোলনের সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। অধ্যক্ষ কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থক হলে তাতে আমাদের আপত্তি নেই। দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও অভিযোগের কোনো সমাধান না হওয়ায় আমরা তাঁর পদত্যাগ দাবি করছি।”

এ বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবু তাহের জিহাদী বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলো শতভাগ মিথ্যা। গত জাতীয় নির্বাচনের পর থেকেই আমি একটি মহলের টার্গেটে আছি। সেই ধারাবাহিকতায় আজ এসব অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে দাঁড় করানো হয়েছে। আমি সব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।”

মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির এক সদস্য দাবি করেন, সব শিক্ষার্থী আন্দোলনে অংশ নেয়নি। মাওলানা ফেরদৌস ও হারুন অর রশিদের অনুসারী একাংশের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছে। পরে তারা নিজ নিজ আবাসিক ভবনে ফিরে গেছে। বিষয়টি নিয়ে সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হবে বলেও জানান তিনি।

তবে উস্কানির অভিযোগ অস্বীকার করে জমিয়ত নেতা মাওলানা ফেরদৌসুর রহমান বলেন, গত ৫ জুলাই একই দাবিতে আন্দোলনের পর তিন দিনের মধ্যে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই আশ্বাস বাস্তবায়ন হয়নি। তাই শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্যোগেই আবার আন্দোলনে নেমেছে। এতে তাঁর কোনো উসকানি নেই বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, “আমি চাই মাদ্রাসার সমস্যার স্থায়ী সমাধান হোক।”

উল্লেখ্য, গত ৫ জুলাই অধ্যক্ষের পদত্যাগ এবং শিক্ষক হারুন অর রশিদকে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের একাংশ আন্দোলন করেন। সে সময় অধ্যক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটির কয়েকজন সদস্যকে কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতাদের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমাধান না হওয়ায় আবারও বিক্ষোভে নামে শিক্ষার্থীদের একাংশ।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়