ঈদ যাত্রায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে উঠছেন যাত্রীরা
সকাল ৬টা ৪৫ মিনিট। নারায়ণগঞ্জ সেন্ট্রাল লঞ্চ ঘাটে ঈদকে ঘিরে ঘরমুখো মানুষের ভিড়। নীড়ে ফেরার আনন্দে ব্যস্ত যাত্রীরা—কেউ লঞ্চের অপেক্ষায়, কেউ ছোট না বড় লঞ্চে উঠবেন তা নিয়ে আলোচনা করছেন। তবে এই ব্যস্ততার মাঝেই দেখা গেছে উদ্বেগজনক চিত্র—নিরাপত্তা উপেক্ষা করে ঝুঁকি নিয়ে নৌকাযোগে লঞ্চে উঠছেন অনেকে।
ঘাটের অদূরে নোঙর করা চাঁদপুরগামী এম.ভি হাশিমপুর এক্সপ্রেস-১ লঞ্চে যাত্রীরা কোনো ধরনের নিরাপত্তা ছাড়াই নৌকা দিয়ে উঠছেন। অনেককে শিশু সন্তানকে কোলে বা হাত ধরে নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে লঞ্চে উঠতে দেখা যায়।
চাঁদপুরের বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন স্ত্রী-সন্তানসহ এমন ঝুঁকি নিয়েই লঞ্চে উঠছিলেন। তিনি বলেন, “ছোট লঞ্চে উঠতে ভয় লাগে। নদীপথে কখন ঝড়-তুফান হয় বলা যায় না। তাই একটু দেরি হলেও বড় লঞ্চে উঠতেছি। নিরাপদে যাইতে চাইলে কিছুটা ঝুঁকি নিতেই হয়।”
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া লঞ্চ দুর্ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, “ঘটনাটা খুবই ভয়ানক ছিল। তবে এখানে যাত্রীচাপ কম, আর লঞ্চও দুই-তিনটা।”
শীতলক্ষ্যা নদীতে যাত্রী পারাপার করা মাঝি মোহাম্মদ সেলিম বলেন, “আমাদের কাজই যাত্রী পারাপার করা। আজকে অনেক যাত্রী ঘাটে থাকা ছোট লঞ্চে উঠতে চাচ্ছে না। দূরের লঞ্চে যেতে চাচ্ছে, তাই কিছু বেশি ভাড়ার আশায় আমরা তাদের নিয়ে যাচ্ছি।”
নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়ে তিনি বলেন, “যাত্রীদের চাপাচাপির কারণে আমরা মাঝিরা বাধ্য হচ্ছি নৌকায় উঠাতে।”
ঘাটে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের মধ্যেও বড় লঞ্চে ওঠার প্রবণতা বেশি দেখা গেছে। অনেকেই মাঝিদের ডাকছেন দূরের লঞ্চে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। তাদের বক্তব্য—ছোট লঞ্চে যাত্রা করতে চান না।
চাঁদপুরগামী এমএল রাসেল এক্সপ্রেস-২ লঞ্চের হেলপার মোহাম্মদ আল আমিন জানান, “একটি লঞ্চ সকাল ৭টায় এবং অন্যটি ৭টা ৫০ মিনিটে ছাড়বে। একটি ঘাটে রাখা হয়েছে যাত্রী তোলার জন্য, আর অন্যটি মাঝনদীতে নোঙর করা আছে সময় না হওয়ায়।”
যাত্রীদের ঝুঁকির বিষয়ে তিনি বলেন, “ছোট লঞ্চ দেখে অনেক যাত্রী উঠতে চায় না। যারা তাড়াতাড়ি যেতে চায়, তারাই ঝুঁকি নিয়ে দূরের লঞ্চে উঠছে। নির্ধারিত সময়ের আগে ঘাট কর্তৃপক্ষ লঞ্চ ভিড়াতে দেয় না।”
এদিকে সকাল ৭টায় ছেড়ে যাওয়া এমএল কক্সপ্রেস লঞ্চে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী তোলার চেষ্টা হলেও বেশিরভাগ যাত্রী এতে উঠতে অনীহা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, এসব লঞ্চ নারায়ণগঞ্জ থেকে ছেড়ে গজারিয়া, ষাটনল, মোহনপুর, একলাসপুর ও হাইমচর হয়ে চাঁদপুর লঞ্চ ঘাটে যাবে।





































