খাদ্যপণ্য খালাস না করে জাহাজ নদীতে, ব্যবস্থার নির্দেশ মন্ত্রীর
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুদামে পণ্য খালাস না করে নদীতেই লাইটার জাহাজে রেখে দেওয়ার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেবার নির্দেশ দিয়েছেন নৌ পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে দশটার দিকে আকস্মিক পরিদর্শনে নেমে তিনি মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর এলাকায় ধলেশ্বরী নদীতে কয়েকটি লাইটার জাহাজ দেখতে পান।
এসব জাহাজে আমদানি করা গম ও ভূট্টা মজুদ করা ছিল। এ খাদ্যপণ্যগুলো আমদানিকারকের গুদামে খালাসের কথা থাকলেও তা ৬ থেকে ১৮ দিন পর্যন্ত নদীতেই রেখে দেওয়া হয়েছে বলে জানান নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের বিশেষ কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোকসানা খায়রুন নেসা।
তিনি বলেন, যেসব কোম্পানি এ জাহাজগুলোতে পণ্য মজুদ করে রেখেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অর্থ্যাৎ নিয়মিত মামলা করার নির্দেশনা দিয়েছেন মন্ত্রী।
এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি সদ্য সাবেক নৌ পরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় ঘাটে পৌঁছানোর তিন দিনের মধ্যে লাইটার জাহাজ থেকে পণ্য খালাস না করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের ডেপুটি নটিক্যাল সার্ভেয়ার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার ডিকসন চৌধুরী বলেন, পরিদর্শনে তিনটি লাইটার জাহাজ ধলেশ্বরী নদীতে নোঙর করা পাওয়া যায়। মাদার ভেসেল থেকে পণ্য পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত এ জাহাজগুলো ৬ থেকে ১৮ দিন পর্যন্ত এখানে নোঙর করা আছে।
খাদ্যপণ্যবোঝাই জাহাজগুলো “মদিনা গ্রুপ”, “এসএস ট্রেডিং”, “বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স” ও “আমান গ্রুপ”-এর নামে কোম্পানির অধীনে পণ্য ভাসমান অবস্থায় রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
“এক্ষেত্রে কয়েকটি ঘটনা ঘটে। অনেকক্ষেত্রে গুদাম ফাঁকা থাকে না, তাই ভাসমান গুদাম হিসেবে জাহাজগুলো ব্যবহার করে কোম্পানিগুলো। আবার অসৎ উদ্দেশ্যও থাকে, যেমন গুদামজাত না করে, পরে পণ্যের দাম বাড়লে তা বাজারে ছাড়া এবং অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন। কিন্তু এক্ষেত্রে জাহাজ মালিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।”
ওসব বিবেচনায় নৌ পরিবহন অধিদপ্তর টাস্কফোর্স গঠন করে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। গত দেড় মাসে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ৮৩৮টি জাহাজে অভিযান চালানো হয়েছে বলেও জানান ডিকসন চৌধুরী।





































