কালিয়ানি খাল দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের উদ্যোগ
দীর্ঘদিন দখল হয়ে থাকা সদর উপজেলার কালিয়ানি খাল দখলমুক্ত করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে প্রশাসন। খালের সীমানা চিহ্নিত করে দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) কালিয়ানি খাল সরেজমিন পরিদর্শন শেষে ফতুল্লা সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান নূরকে এ নির্দেশ দেন ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন।
সদর উপজেলার ফতুল্লা এলাকার এনায়েতনগর ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে বহমান কালিয়ানি খাল। প্রায় এক হাজার ফুট লম্বা খালটি নারায়ণগঞ্জ শহরকে ধলেশ্বরী নদীর সঙ্গে যুক্ত করেছে। কিন্তু দীর্ঘদিনের দখলে প্রশস্ত খালটি একটি সরু নালায় পরিণত হয়েছে। যার ফলে প্রতিবছর ফতুল্লা শিল্পনগরী বিসিক, আশপাশের এলাকাসহ শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
২০২০ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন এনায়েতনগর ভূমি অফিসের মাধ্যমে কালিয়ানি খালের দৈর্ঘ্য-প্রস্থ নিরূপণ ও দখলদারদের তালিকা তৈরি করেছিলেন। পরপর দুই দফা ওই তালিকা এসিল্যান্ড ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গেলেও খালটি উদ্ধারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।
ওই তালিকা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মোট ৩৪ জন দখলদার কালিয়ানি খাল দখল করে রেখেছেন। যার মধ্যে ১৭ জনই গার্মেন্টস, নিটিং ও ডাইং ব্যবসায়ী।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন প্রেস নারায়ণগঞ্জকে বলেন, “আমরা কালিয়ানি খাল দখলমুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এ লক্ষ্যে খালের সীমানা চিহ্নিত করে দখলদারদের তালিকা তৈরি করতে বলেছি। পূর্বের তালিকা সম্পর্কে আমি জানতাম না, তবে বিষয়টি দেখবো। আর দখলদার যেই হোক, তার পরিচয় দেখবো না। কোনো দখলদারকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা আগামী বর্ষার আগে খালটি উদ্ধার করতে চাই।”
ধারাবাহিকভাবে সদর উপজেলার অন্যান্য খালগুলোও দখলমুক্ত করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “মন্ত্রণালয় খালগুলো দখলমুক্ত করার জন্য বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে আমাদের কাছে খালগুলোর তথ্য চেয়েছে। দুটি খালের তথ্য আমরা ইতোমধ্যে পাঠিয়েছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডও খালগুলো নিয়ে কাজ করছে।”





































