০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ:

প্রকাশিত: ১৯:৪৮, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে অর্ধেকের বেশি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

নারায়ণগঞ্জে অর্ধেকের বেশি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের মোট ৭৯৭টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪৫১টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ (গুরুত্বপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। যা মোট ভোটকেন্দ্রের প্রায় ৫৬ শতাংশেরও বেশি।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৩ লাখ ৯২ হাজার ৩৭০ জন। এসব ভোটারের জন্য জেলার ৬০২টি ভেন্যুতে ৭৯৭টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৫১টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুত করা তালিকা অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে নারায়ণগঞ্জ-২ ও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে। আড়াইহাজার উপজেলা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের মোট ভোটকেন্দ্রের প্রায় ৮৯ শতাংশই ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছে প্রশাসন। এরপর রয়েছে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন, যেখানে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের হার প্রায় ৭০ শতাংশ। নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে এ হার প্রায় ৫৫ শতাংশ। তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে শহরাঞ্চলের নারায়ণগঞ্জ-৪ ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে, যেখানে হার যথাক্রমে ৪১ ও ৩৩ শতাংশ।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নির্ধারণের বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী প্রেস নারায়ণগঞ্জকে বলেন, “যেসব ভোটকেন্দ্রের যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল এবং কোনো ঘটনা ঘটলে দ্রুত সেখানে পৌঁছানো কঠিন, সেসব কেন্দ্রকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যেসব কেন্দ্রে কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীর প্রভাব বেশি—যেমন প্রার্থীর বাড়ির পাশের কেন্দ্র বা দলীয় কার্যালয়ের নিকটবর্তী কেন্দ্র—এই বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সার্বিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতেই তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে। সে কারণেই স্বাভাবিকের তুলনায় এবার ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা বেশি।”

আসনভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, আড়াইহাজার উপজেলা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৯৮ জন ভোটারের জন্য ১১১টি ভেন্যুতে ১১৮টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ১০৫টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, যা মোট কেন্দ্রের প্রায় ৮৯ শতাংশ।

সিদ্ধিরগঞ্জ ও সোনারগাঁ এলাকা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৩৪৬ জন। এখানে ১৫৫টি ভেন্যুতে মোট ২১০টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে, যার মধ্যে ১৪৭টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

রূপগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮ হাজার ৮২৯ জন। এসব ভোটারের জন্য ১০৯টি ভেন্যুতে ১২৯টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭২টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে।

ফতুল্লা ও সদর উপজেলার আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৪০ হাজার ৮১৩ জন। এ আসনে ৯৭টি ভেন্যুতে ১৭৭টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৭৩টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ।

সবশেষে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর–বন্দর) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪৫ হাজার ২৮৪ জন। এসব ভোটারের জন্য ১৩০টি ভেন্যুতে ১৬৩টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৪টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী আরও বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায়।”

সর্বশেষ

জনপ্রিয়