চাষাঢ়ায় শিক্ষার্থীদের দাঁড়াতে দিলো না পুলিশ, লাঠিচার্জ

সারাদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে হতাহতদের স্মরণে নারায়ণগঞ্জ শহরে আয়োজিত ‘মোমশিখা প্রজ্বালন’ কর্মসূচি পুলিশি বাধায় পন্ড হয়ে গেছে। এই সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এতে অন্তত দশজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে শহরের চাষাঢ়ায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শতাধিক শিক্ষার্থী ও তাদের কয়েকজন অভিভাবক জড়ো হলে এই ঘটনা ঘটে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা সাংবাদিকদের বলেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে শহীদ মিনারে মোম হাতে দাঁড়িয়েছিলেন। কর্মসূচি শুরু করার আগেই পুলিশ তাতে বাধা দেয়। তাদের জানানো হয় যে, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে নিহত সহপাঠীদের স্মরণে মোমশিখা প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করবে শিক্ষার্থীরা। কিন্তু পুলিশ কোন কথা না শুনেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর লাঠিচার্জ করতে শুরু করে। এতে অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে জানান তারা।
পুলিশের লাঠিচার্জের পর শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। তবে তারা আশেপাশের সড়কে অবস্থান করতে থাকে। এই সময় একাধিকবার পুলিশ তাদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয়। পুলিশ ধাওয়া দিলেও দুইজন কলেজ ছাত্রী হাতে-হাত চেপে ধরে সড়কের উপর দাঁড়িয়ে থাকে। তারা পুলিশের লাঠিচার্জের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে স্লোগান দিতে থাকে।
পরে আরও শিক্ষার্থীরা তাদের পাশে জড়ো হয়। সেখান থেকে পুলিশকে তিনজন শিক্ষার্থীকে আটক করে নিয়ে যায়। যদিও পুলিশ দাবি করেছেন, তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। কিছুক্ষণ পরেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
‘আমরা একটা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে দাঁড়িয়েছিলাম। আমাদের হাতে ছিল মোমবাতি। কোন লাঠি বা ইট আমাদের হাতে ছিল না। আমরা কাউকে ঢিল মারিনি, কাউকে গালিও দেইনি। তাহলে কেন আমাদের উপর লাঠিচার্জ করা হবে? পুলিশ আমাদের বলে, ‘আমরা তোমাদের সেফটির জন্য’। আমাদের পেটানোর মধ্য দিয়ে তারা আমাদের নিরাপত্তা দিচ্ছেন? এইটাকে সেফটি দেওয়া বলে? আমরা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই। উই ওয়ান্ট জাস্টিস, আমরা থেমে যাবো না। আমরা আরও দ্বিগুন হবো’, বলেন সরকারি তোলারাম কলেজের এক ছাত্রী।
জানতে চাইলে ওই সময় পুলিশকে নেতৃত্ব দেওয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘কোন অনুমতি ছাড়া তারা কর্মসূচির জন্য জড়ো হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেই।’
শিক্ষার্থীদের উপর লাঠিচার্জের বিষয়টি অস্বীকার করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।