০৪ মার্চ ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ:

প্রকাশিত: ১৮:৫২, ৪ মার্চ ২০২৬

ইসলামী আলোচক ও গবেষক মীর হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদীর ইন্তেকাল

ইসলামী আলোচক ও গবেষক মীর হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদীর ইন্তেকাল

‘মজসিদেরই পাশে আমায় কবর দিয়ো ভাই, সেখান থেকে যেনো আমি মুয়াজ্জিনের আযান শুনতে পাই।’ 

সৃষ্টিকর্তার ডাকে সাড়া দিয়ে চলে গেলেন দেশ বিদেশের আলোড়িত ও আলোচিত ইসলামিক বক্তা মাওলানা মীর হাবিবুর রহমান (৮২) যুক্তিবাদী। দেশের খ্যাতনামা ইসলামীক বক্তা ও গবেষক মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী ও মীর হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদীর হাতে অসংখ্য অমুসলিমরা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। আজ সেই ধারাবাহিকতার অবসান ঘটিয়ে মাটির নিচে সায়িত হলেন মীর হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদী।  

গ্রাম থেকে শহরের অলি-গলিতে সবখানেই মীর হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদীর দরাজ কন্ঠে শোনা যেতো কোরআন, হাদিস, নবী, সাহাবী ও আওলিয়াদের জীবনী থেকে নেয়া বিভিন্ন শিক্ষামূলক বিশ্লেষণ। ৬০ বছর ইসলামি আলোচনা ও গবেষনা জীবণে তিনি শুধু বাংলাদেশে নয়, আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে তিনি ধর্মীয় প্রচার ও প্রসার ঘটিয়ে লন্ডন, আমেরিকা, কানাডা, ফ্রান্স, ইতালি, জার্মানি, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, সিঙ্গাপুর সহ বিশ্বের অর্ধশত রাষ্ট্র সফর করেছেন তিনি। ইসলামী সাহিত্য অঙ্গনে “ইসলামে নারীর মর্যাদা”, “ধর্ম ও ইবাদত”, “মুক্তির সহজ পথ”, “রাসুলে খোদা (স.)”, “মক্কাতে রাসুল (স.)”, মদিনাতে রাসুল (স.), শানে রাসুল (স.)” সহ তার লেখা অসংখ্য বই স্বরণীয় করে রাখবে তাকে। 

গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল পৌনে ৭টায় ঢাকার একটি বেসরকারী হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি ২ স্ত্রী, চার ছেলে ও তিন মেয়েসহ বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। 

ঢাকার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রথম জানাযা শেষে ঢাকায় ২য় ও ৩য় জানাযা শেষে আজ বুধবার রূপগঞ্জের বানিয়াদী এলাকায় তার প্রতিষ্ঠিত “হাবিবিয়া হাফেজিয়া এতিমখানা মাদ্রাসা”  মাঠে ৪র্থ ও ৫ম জানাযা শেষে মাদ্রাসা ও মজসিদ সংলগ্ন কবরস্থানে দাফন তাকে দাফন করা হয়। 

তিনি ১৯৪৭ সালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গীর হারিন্দা গ্রামের আল্লামা নেছার উদ্দীন খলিফার ঘরে জন্ম নেন তিনি। নিজ গ্রামেই প্রাথমিক লেখাপড়া শেষ করে একই গ্রামে নেছারিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে ১৯৬৩ সালে দাখিল ও ১৯৬৫ সালে আলিম পাস করেন। ১৯৬৭ সালে ফাজিল পাশ করে সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া থেকে প্রথম বিভাগে কামিল পাশ করেন তিনি। তার পরপরই নিজেকে দীনের প্রচার ও প্রসারে তিল তিল করে গড়ে তুলেন। 

স্থানীয়রা বলছেন, কবির ভাষায় “কেঁদে ছিলে তুমি, হেসেছিল ভুবন, এমন জীবন তুমি করিও গঠন, মরণে হাসিবে তুমি- কাঁদিবে ভুবন। উক্তিটি যেনো ইসলামের কিংবদন্তী এই আলোচক ও গবেষকের জীবণীকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। মীর হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদী ছিলেন অত্যন্ত চিন্তাশীল, ইসলামি আলোচক ও গবেষক। তার কর্মজীবণে সবাইকে মুগ্ধ করায় ভিন্ন ধর্মের অগুনতি মানুষ ইসলাম ধর্মকে গ্রহণ করেছে। সবার মাঝে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেন তিনি। আমরা একজন কিংবদন্তীকে হারালাম। আল্লাহ যেনো ইসলামের এই খেদমতী মেহমানকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসীব করেন। 

মীর হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদীর ছোট ভাই মীর মোহাম্মদ শহিদুর রহমান যুক্তিবাদী বলেন, কখনো পায়ে হেটে, কখনো রিক্সায় চড়ে, আবার কখনো গাড়িতে চড়ে তিনি দেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ইসলামের প্রচার ও প্রসার ঘটিয়ে ছিলেন তিনি। মাওলানা আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী ও মীর হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদীর হাত ধরে দেশের ইসলামের ইতিহাসে তারা নিরব বিপ্লব ঘটিয়েছেন। 

সর্বশেষ

জনপ্রিয়