১৬তম জন্মদিনের প্রাক্কালে
ত্রিস্তান সাহার কানাডিয়ান লার্নার্স ড্রাইভিং লাইসেন্স অর্জন
কানাডা থেকে প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারের জন্য এক আনন্দঘন ও গর্বের সংবাদ। ১৬তম জন্মদিনের প্রাক্কালে কানাডিয়ান লার্নার্স ড্রাইভিং লাইসেন্স অর্জন করেছে কিশোর ত্রিস্তান সাহা। কৈশোরের এই গুরুত্বপূর্ণ অর্জন তার ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীদের জন্যও এক স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।
ত্রিস্তানের এই সাফল্যে তার দাদা-দাদি, চাচা-চাচি, মামা-খালা, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আনন্দ ও আবেগের সঞ্চার হয়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই ত্রিস্তান দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাসের পরিচয় দিয়ে আসছে—এই অর্জনের মধ্য দিয়ে যার স্বাভাবিক প্রতিফলন দেখা গেছে।
সন্তানের সাফল্যে বিশেষভাবে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তার বাবা সুমিত সাহা। তিনি বলেন, “এটি শুধু একটি লাইসেন্স প্রাপ্তি নয়, বরং জীবনের পথে দায়িত্বশীলভাবে এগিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।”
এদিকে পারিবারিক পরিবেশে আনন্দের পাশাপাশি কিছুটা হাস্যরসও যোগ হয়। ত্রিস্তানের এই সাফল্যে বাবা সুমিত সাহা এতটাই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন যে, ত্রিস্তানের মা পৌলমী সাহা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে বাধ্য হন—এ নিয়ে পরিবারের মধ্যে মজার আলোচনা চলে। প্রসঙ্গত, পরিবারিক রসিকতার অংশ হিসেবে বলা হয়, সুমিত সাহা নাকি এখন পর্যন্ত “১৯২ মাসের মতো গর্ভধারণ” করে আছেন।
ত্রিস্তানের নানা-নানীও আনন্দের সঙ্গে মজার প্রত্যাশার কথা জানান। তারা বলেন, নাতির লাইসেন্স পাওয়ার পর তাকে সঙ্গে নিয়ে রেস্তোরাঁ, শপিং মল ও পারিবারিক ভ্রমণে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিবারের আলোচনায় এটিও উঠে আসে যে, ভবিষ্যতে এসব যাত্রায় ত্রিস্তানই চালকের আসনে থাকবে—কারণ তার বাবার ড্রাইভিং দক্ষতা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘদিনের এক ‘ভীতিকর অভিজ্ঞতা’ প্রচলিত রয়েছে।
কানাডার ড্রাইভিং ব্যবস্থায় লার্নার্স লাইসেন্স একজন কিশোরের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যা তাকে নিয়মতান্ত্রিক প্রশিক্ষণ ও নিরাপদ ড্রাইভিংয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ লাইসেন্স অর্জনের পথে প্রস্তুত করে।
এই উপলক্ষে পরিবারের এক জ্যেষ্ঠ সদস্য কাব্যিক ভাষায় অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন—
“ছোট পায়ে বড় পথে হাঁটার শুরু,
স্বপ্নের চাকা ঘোরে নিয়মের ছুঁয়ে।”
আরেকটি পঙ্ক্তিতে ধরা পড়ে এই অর্জনের গভীরতা—
“বয়স মাত্র ষোলো, তবু দায়িত্ব তার সমান,
আগামীর পথে পা বাড়ায় সাহস আর শৃঙ্খলার টান।”
ত্রিস্তান সাহার এই সাফল্যে তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। আশা করা হচ্ছে, দায়িত্ববোধ, সততা ও নিয়ম মেনে চলার মাধ্যমে সে আগামী দিনগুলোতেও সাফল্যের পথে এগিয়ে যাবে।





































