১৫ মার্চ ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২০:৪০, ১৫ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ২০:৫১, ১৫ মার্চ ২০২৬

বেতন-বোনাসের দাবিতে বাড়ছে শ্রমিক অসন্তোষ

বেতন-বোনাসের দাবিতে বাড়ছে শ্রমিক অসন্তোষ

নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে ক্রমেই বাড়ছে অসন্তোষ। বকেয়া বেতন, ঈদ বোনাস, মাতৃত্বকালীন ভাতা ও সার্ভিস বেনিফিট পরিশোধ না করার অভিযোগে গত কয়েক দিনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেছেন। এতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়ে জনদুর্ভোগ বেড়েছে।

শিল্পাঞ্চল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতি বছর ঈদকে ঘিরে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সময়মতো শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ না করা হলে অসন্তোষ দ্রুত আন্দোলনে রূপ নেয় এবং এর প্রভাব পড়ে সড়ক যোগাযোগ ও জনজীবনে।

এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বেতন ও বোনাসের দাবিতে বিক্ষোভ করেন ‘মোতালেব মনোয়ারা গার্মেন্টস’-এর শ্রমিকরা। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা জানান, কারখানাটির মালিকপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে তাদের পাওনা পরিশোধ না করে কারখানাটি বন্ধ করে রেখেছে।

শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদের তিন মাসের বকেয়া বেতন এখনো পরিশোধ করা হয়নি। এছাড়া ১৫ জন নারী শ্রমিকের মাতৃত্বকালীন ভাতা, ঈদ বোনাস এবং শ্রমিকদের সার্ভিস বেনিফিটও বকেয়া রয়েছে। এসব পাওনা পরিশোধের বিষয়ে মালিকপক্ষের কাছ থেকে কোনো সুস্পষ্ট আশ্বাস না পাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে বিক্ষোভে নামেন বলে জানান শ্রমিকরা। তারা দ্রুত পাওনা পরিশোধের দাবি জানান।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে ফতুল্লার গাবতলী এলাকায় অবস্থিত সেঞ্চুরি গার্মেন্টসের শ্রমিকরা কারখানার সামনে ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়ক অবরোধ করে প্রায় এক ঘণ্টা বিক্ষোভ করেন। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।

শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাদের বেতন বকেয়া রয়েছে। একাধিকবার কারখানা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলেও কোনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি। ফলে বাধ্য হয়ে তারা সড়কে নেমে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। শ্রমিকরা জানান, বকেয়া বেতন পরিশোধ না করা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

এর একদিন আগে বুধবার (১১ মার্চ) রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব পৌরসভার খাদুন এলাকায় ‘ভুঁইয়া ফেব্রিকস’ নামে একটি পোশাক কারখানার প্রায় ৪০০ শ্রমিক ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে মহাসড়কে প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং দূরপাল্লার যানবাহনসহ সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়।

শ্রমিকদের অভিযোগ, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন এবং ঈদ বোনাস দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া রয়েছে। মালিকপক্ষ বারবার বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। বুধবার সকালে শ্রমিকরা কারখানায় এসে জানতে পারেন যে তাদের বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস আগামী ১৮ মার্চ পরিশোধ করা হবে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শ্রমিকরা কারখানা থেকে বের হয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন এবং সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।

একই দিন ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলের বিসিক এলাকায় ইউরো নিটস্পিনিং গার্মেন্টসের শ্রমিকরাও বেতন ও বোনাসের দাবিতে আন্দোলন করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিল্পাঞ্চলগুলোতে বেতন ও বোনাস সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা দেখা দিলে দ্রুত শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ঈদের আগে পরিবারের খরচ ও বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতির জন্য শ্রমিকদের কাছে বেতন ও বোনাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে পাওনা না পেলে তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হন।

এদিকে ঈদের আগে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের দাবিতে শহরে মানববন্ধন করেছে একাধিক শ্রমিক সংগঠন। এসব কর্মসূচিতে শ্রমিক নেতারা বলেন, ঈদকে সামনে রেখে শ্রমিকদের কাঙ্ক্ষিত ঈদ বোনাস ও সকল বকেয়া পাওনাসহ চলতি (মার্চ) মাসের অর্ধেক বেতন পরিশোধ করতে হবে। কারণ শ্রমিকরা যে মজুরি পান তা দিয়ে সারা বছর টানাটানির মধ্যে ধারদেনা করে চলতে হয়।

তারা বলেন, অনেক মালিক মাসের পর মাস শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বকেয়া রাখেন এবং ঈদকে কেন্দ্র করে সব পাওনা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন। শ্রমিকরা আশায় থাকেন ঈদের আগে বোনাসসহ সব বকেয়া পেলে ধারদেনা শোধ করবেন এবং পরিবারের সদস্যদের জন্য নতুন পোশাক কিনবেন। তাই যথাসময়ে শ্রমিকদের সকল পাওনা পরিশোধের দাবি জানান তারা।

শ্রমিক নেতারা আরও বলেন, ঈদের আগে শ্রমিকদের নিরাপদে চলাচল নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা জোরদার করতে হবে। পরিবহন ভাড়া নিয়ন্ত্রণে রেখে শ্রমিকদের নির্বিঘ্নে বাড়ি ফেরা নিশ্চিত করারও দাবি জানান তারা। এছাড়া গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ, বিজিএমইএ এবং সরকারের পক্ষ থেকে আগেভাগেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়