১৫ মার্চ ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২১:৫৮, ১৫ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ২২:৩৩, ১৫ মার্চ ২০২৬

টার্গেটে পোশাকধারী পুলিশ

টার্গেটে পোশাকধারী পুলিশ

নারায়ণগঞ্জে ইউনিফর্ম পরা দায়িত্বরত এক পুলিশ কর্মকর্তাকে অস্ত্রের মুখে পিস্তল ছিনতাইয়ের ঘটনার এক সপ্তাহের ব্যবধানে রেলওয়ে পুলিশের দুই সদস্য মারধরের শিকার হয়েছেন। মারধরের শিকার কর্মকর্তাও ছিলেন পুলিশের পোশাকে।

পুলিশের ভাষ্য, মাদকসহ দুইজন যুবককে আটকের পর তাদের ছিনিয়ে নিতে সহযোগীরা হামলা চালিয়েছে।

এদিকে, পরপর শহরে পুলিশের উপর আক্রমণের এই ঘটনায় উদ্বেগ দেখা গেছে নাগরিক মহলে।

তারা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে সংঘটিত দুইটি ঘটনা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলার জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দু’টি ঘটনাই শহরের ভেতরে এবং থানার এক কিলোমিটারের মধ্যে। জনবহুল এসব স্থানে দায়িত্ব পালনরত পোশাকধারী পুলিশ এখন সরাসরি অপরাধীদের টার্গেটে পরিণত হচ্ছে, যা শহরের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগ তৈরি করছে।

এতে রাস্তাঘাটে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।

প্রথম ঘটনা ঘটেছে গত ৯ মার্চ সকালে বঙ্গবন্ধু সড়কের নিতাইগঞ্জ এলাকায়। সদর মডেল থানাধীন শীতলক্ষ্যা পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই লুৎফর রহমান নগর ভবনের সামনে টয়লেট ব্যবহারের জন্য সাময়িকভাবে নিজের টিম থেকে বিচ্ছিন্ন হলে তিনজন ছিনতাইকারী তার পথরোধ করে। পুলিশ পোশাকে থাকা সত্ত্বেও তার কাছ থেকে সরকারি পিস্তল ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারী দল।

যদিও চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে পুলিশ জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার ও ছিনতাই হওয়া গুলিসহ পিস্তল উদ্ধার করে, কিন্তু অন-ডিউটি পুলিশ অফিসারের সরকারি অস্ত্র ও গুলি ছিনতাই এ ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

এই ঘটনার এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১৫ মার্চ বিকেলে উকিলপাড়া রেললাইনে দুই পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনা ঘটে। রেলওয়ে পুলিশের এসআই মিজানুর রহমান ও কনস্টেবল আরিফুল ইসলাম মাদক অভিযানে দুই ব্যক্তিকে আটক করে সিএনজিতে নিয়ে যাওয়ার সময় তাদের ওপর আক্রমণ চালানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও সূত্রে জানা যায়, পুলিশ সিএনজিতে দুইজন ব্যক্তিকে নিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় ধস্তাধস্তি শুরু হলে স্থানীয় কয়েকজন যুবক এগিয়ে আসে। পরে পুলিশের সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়; স্থানীয়রা তাদের ‘ভুয়া পুলিশ’ বলে মারধর শুরু করে।

ভিডিওতে স্থানীয়রা এলোপাথারি কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। এতে নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মিজানুর ও কনস্টেবল আরিফুল জখম হন। মিজানুরের পরনে পুলিশের পোশাক ও হাতে ওয়াটকিও দেখা যায়।অন্যদিকে অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান ও রমজান দাবি করেন, বিনা কারণে তাদের আটক করা হয়। হ্যান্ডকাফ পরিয়ে সিএনজিতে তুলে নেয়া হয় এবং তাদের টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের সিএনজি থেকে নামায়।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ আব্দুল হালিম জানান, মাদকের অভিযানে এসআই মিজান ও কনস্টেবল আরিফ দুই মাদক বিক্রেতাকে আটক করেন। পরে তাদের সহযোগীরা তাদের ছাড়াতে হামলা চালায়।

নগরবাসীরা মনে করছেন, এই ধরনের ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়; শহরের আইনশৃঙ্খলাও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। সরকারি অস্ত্র ছিনতাই এবং পুলিশ পোশাক থাকা সত্ত্বেও আক্রমণ নির্দেশ করছে যে, অপরাধীরা পুলিশের ওপর ভয় পাচ্ছে না বরং তাদের কর্মকাণ্ডকে চ্যালেঞ্জ করছে। বিশেষ করে শহরের ব্যস্ত ও জনবহুল এলাকায় পুলিশের কার্যক্রম যথেষ্ট না হলে অপরাধীরা সহজেই তাদের টার্গেট করতে পারবে।

তারা আরও মনে করছেন, এখনই প্রয়োজন দৃঢ় ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ, যাতে পুলিশকে সুরক্ষা দেওয়া যায় এবং শহরের আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত রাখা সম্ভব হয়।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়