০৮ জুলাই ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২২:২৫, ৮ জুলাই ২০২৬

প্রকাশ্যে গুলি করেও অধরা সন্ত্রাসী জাহিদ-রাসেল

প্রকাশ্যে গুলি করেও অধরা সন্ত্রাসী জাহিদ-রাসেল

নারায়ণগঞ্জ নগরীতে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে গুলি ছোড়ার ঘটনায় অভিযুক্ত দুই সন্ত্রাসী রাসেল ও জাহিদ দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। রাসেলের প্রকাশ্যে গুলি চালানোর ঘটনার দুই বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। অন্যদিকে জাহিদ একবার র‌্যাবের অভিযানেও গুলি চালিয়েছে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবারও সে মাসদাইরের গাইবান্ধা বাজার এলাকায় অস্ত্রের মহড়া দিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাকে ধরতে র‌্যাব ও পুলিশ একাধিকবার অভিযান চালিয়েও ব্যর্থ হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দুই মাসের মাথায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হন। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রশাসনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সেদিন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খান ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাখাওয়াত ইসলাম রানার অনুসারীরা বন্ধন পরিবহনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে উভয় পক্ষ হামলা ও পাল্টা হামলা চালায়।

এ সময় কালো সানগ্লাস পরা এক যুবক কোমড় থেকে পিস্তল বের করে বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এস এম মালেহ রোডে প্রথমে এক রাউন্ড গুলি করেন। পরে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার সামনেও আরও তিন রাউন্ড গুলি ছোড়েন। প্রকাশ্যে গুলি ছোড়া ওই যুবক ছিলেন মাসদাইরের বাসিন্দা রাসেল। যার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা পরিচালনা ও স্থানীয় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়ে বিএনপি। পরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সাখাওয়াত ইসলাম রানা ও সাবেক ছাত্রদল নেতা জাকির খান, উভয় পক্ষই রাসেলকে নিজেদের কর্মী নন বলে দাবি করে তাঁর বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করেন। মামলার পর থেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন রাসেল। তাকে ধরতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত রাসেলকে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলেও তা আর সম্ভব হয়নি। পুলিশের তথ্যে সে এখনো পলাতক।

এর মধ্যে ২০২৫ সালের ১৮ জুলাই জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রায় অংশ নিতে দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা নারায়ণগঞ্জে এলে দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর সঙ্গে সেলফি তুলতে দেখা যায় পলাতক রাসেলকে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তখন তাঁর গ্রেপ্তার দাবি করেছিলেন এনসিপি নারায়ণগঞ্জ মহানগরের আহ্বায়ক শওকত আলী। এরপরও তাঁকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
নগরীর মাসদাইর এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত জাহিদের বিরুদ্ধেও একাধিকবার প্রকাশ্যে গুলি চালানোর অভিযোগ রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে মাসদাইরে ইমন নামে এক যুবক খুন হন। এ ঘটনায় ইমনের মা জাহিদ ও তাঁর সহযোগীদের আসামি করে ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ওই মামলার জের ধরে গত মঙ্গলবার মাসদাইরের কাজিবাড়ী এলাকায় ইমনের বাবাকে কুপিয়ে আহত করেন জাহিদের অনুসারীরা। এ সময় জাহিদ নিজেই এক রাউন্ড গুলি ছোড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ১৪ নভেম্বর মাসদাইর বাজার এলাকায় কৃষক দলের এক নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি করেন জাহিদ। পরদিন তাঁকে গ্রেপ্তারে মাসদাইরের গাইবান্ধা বাজার এলাকায় অভিযান চালায় র‍্যাব-১১। সে সময় র‍্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করেও কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন জাহিদ ও তাঁর সহযোগীরা বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া মাসদাইরের বোয়ালিয়া খাল এলাকায় জাহিদের অনুসারীদের হামলায় র‍্যাবের কয়েকজন সদস্য আহত হন। একাধিকবার প্রকাশ্যে গুলি চালানো এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার অভিযোগ থাকলেও এখনো তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকাশ্যে গুলি চালানো এবং পুলিশ-র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলার মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দীর্ঘদিন গ্রেপ্তার করা না গেলে অপরাধীদের মধ্যে আইনের ভয় কমে যেতে পারে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়