১৬ মার্চ ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৬:১২, ১৬ মার্চ ২০২৬

ত্যাগের স্বীকৃতি পেলেন মামুন মাহমুদ ও সাখাওয়াত

ত্যাগের স্বীকৃতি পেলেন মামুন মাহমুদ ও সাখাওয়াত

নারায়ণগঞ্জ বিএনপির পরীক্ষিত ও ত্যাগী দুই নেতা অধ্যাপক মামুন মাহমুদ ও অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে হামলা, মামলা ও কারাবরণের মতো নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাদের। তবুও দলীয় রাজনীতি থেকে সরে না গিয়ে সম্মুখ থেকে ধারাবাহিকভাবে নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন তারা।

সম্প্রতি এই দুই নেতাকে স্থানীয় সরকারে প্রশাসনিক দায়িত্ব দিয়েছে বিএনপি সরকার। অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে এটিকে দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতৃত্বের প্রতি দলের স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নারায়ণগঞ্জে বিএনপির সাংগঠনিক রাজনীতিতে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এই দুই নেতা। আন্দোলন-সংগ্রামের সময় হামলা, লাঠিচার্জ, গ্রেপ্তার ও একাধিক মামলার মুখোমুখি হলেও তারা দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে সরে দাঁড়াননি। ফলে প্রশাসনিক দায়িত্বে তাদের নিয়োগ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে পরীক্ষিত নেতাদের প্রতি আস্থার বহিঃপ্রকাশ বলেই মনে করা হচ্ছে।

বর্তমানে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ প্রায় ৪৪ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ছাত্রদল থেকে রাজনৈতিক জীবনের শুরু। এরপর যুবদল, ওয়ার্ড, থানা, মহানগর ও জেলা পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যও হয়েছেন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে জেলার শীর্ষ নেতৃত্বে জায়গা করে নিয়েছেন। ক্লিন ইমেজের রাজনীতিক হিসেবেও তিনি ব্যাপকভাবে পরিচিত।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপির রাজনীতির কারণে একাধিকবার গ্রেপ্তার হন মামুন মাহমুদ। বিভিন্ন সভা-সমাবেশে হামলা, লাঠিচার্জ ও মারধরের শিকার হয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক হয়রানিমূলক একাধিক মামলারও আসামি হতে হয়েছে তাকে।

১৯৯৭ সালে প্রথমবার কারাভোগ করেন তিনি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর গত ১৫ বছরে তার বিরুদ্ধে নাশকতা, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও হেফাজত সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ৩৬টির বেশি মামলা দায়ের করা হয়। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেলেও কারাগারের সামনে থেকেই আবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২২ সালে রাজনৈতিক কারণে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যাচেষ্টার ঘটনাও ঘটে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন মামুন মাহমুদ। তবে দলীয় সিদ্ধান্তে বর্তমান সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান মনোনয়ন পাওয়ায় তিনি তা মেনে নিয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন।

রোববার (১৫ মার্চ) তাকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সোমবার তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

অন্যদিকে, গত ২২ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

সাখাওয়াত হোসেন খান মুন্সীগঞ্জের সন্তান। সেখানে ইউনিয়ন ছাত্রদল থেকে তার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। পরবর্তীতে তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজে পড়াশোনার সুবাদে তিনি নারায়ণগঞ্জে আসেন। পরে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক উপদেষ্টা প্রয়াত তৈমুর আলম খন্দকারের জুনিয়র হিসেবে আইন পেশা শুরু করেন। ১৯৯৮ সালে আইনজীবী সমিতির আপ্যায়ন সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে আইনজীবীদের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হন। পরবর্তীতে আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এবং পরে সভাপতি নির্বাচিত হন।

২০১৪ সালে বহুল আলোচিত সাত খুন মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আলোচনায় আসেন সাখাওয়াত হোসেন খান। ২০১৬ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী ছিলেন। যদিও আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। নির্বাচনের পর মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব পান তিনি।

২০১৮ সালে আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার সময় তার একমাত্র ছেলেকে ডিবি পুলিশ ধরে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তার বিরুদ্ধে প্রায় ৬০টি মামলা হয়েছে এবং চারবার কারাবরণ করেছেন তিনি। এক পর্যায়ে টানা দুই মাস কারাগারেও থাকতে হয়েছে তাকে।

২০২২ সালে সাখাওয়াত হোসেন খান মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন তিনি। প্রথম মনোনীত প্রার্থীর বিরোধিতা করলেও পরে দ্বিতীয় প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য আবুল কালামকে মনোনয়ন দিলে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে তার পক্ষে নির্বাচনী কাজ করেন।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়