জলবায়ু সহনশীল নগর গঠনে পিপলস অ্যাডাপ্টেশন প্ল্যান গুরুত্বপূর্ণ
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ও প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে “ন্যাশনাল ওয়ার্কশপ অন লার্নিং এন্ড এক্সপেরিয়েন্স শেয়ারিং” শীর্ষক একটি জাতীয় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৫ মার্চ) ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. সাখাওয়াত হোসেন খান। সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নূর কুতুবুল আলম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আজগর হোসেন, প্রধান সমাজকল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা কে এম ফরিদুল মিরাজ, নগর পরিকল্পনাবিদ মো. মঈনুল ইসলামসহ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা।
কর্মশালায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের প্রতিনিধিবৃন্দ, বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজন অংশগ্রহণ করেন।
অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কার্যক্রম ও প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে তাদের মতামত ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। ওয়ার্ডভিত্তিক জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে গত এক বছরে প্রণীত ‘পিপলস অ্যাডাপ্টেশন প্ল্যান’ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ভবিষ্যৎ মাস্টারপ্ল্যান ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রত্যাশা কর্মশালায় ব্যক্ত করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, নারায়ণগঞ্জের জন্য ‘পিপলস অ্যাডাপ্টেশন প্ল্যান’ একটি মাইলফলক। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কথা সরাসরি শোনার মাধ্যমে এমন একটি শহর গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সক্ষম এবং সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক।
প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন ইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইশরাত শবনম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে প্রান্তিক মানুষের ওপর। মানুষ নিজেরাই যখন অভিযোজন পরিকল্পনা তৈরি করে, তখন প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানগুলো আরও টেকসই ও কার্যকর হয়।
পিপলস অ্যাডাপ্টেশন প্ল্যান ডেভেলপমেন্টের বিশেষজ্ঞ হাসীব মোহাম্মদ ইরফানুল্লাহ বলেন, এ পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রক্রিয়া ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া নয়; বরং নিচ থেকে উপরে ওঠার একটি পদ্ধতি। বৈজ্ঞানিক জলবায়ু ঝুঁকি মূল্যায়নের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটিয়ে এমন একটি পথনকশা তৈরি করা হয়েছে, যা সিটি কর্পোরেশনকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
কর্মশালাটি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়, পারস্পরিক শেখা এবং জলবায়ু সহনশীল ও পরিবেশবান্ধব নগর উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।





































