২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ:

প্রকাশিত: ১৮:২৯, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

পরাজিত প্রার্থীদের বাড়িতে যাননি বিজয়ীরা

পরাজিত প্রার্থীদের বাড়িতে যাননি বিজয়ীরা

নারায়ণগঞ্জে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং একটি আসনে জয় পেয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। নির্বাচন শেষ হওয়ার পর বিজয়ী প্রার্থীরা দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করলেও পরাজিত প্রার্থীদের বাড়িতে গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেননি।

স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাধারণত নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সৌজন্য সাক্ষাৎকে রাজনৈতিক সৌহার্দ্য ও সহনশীলতার নিদর্শন হিসেবে দেখা হয়। তবে এবারের নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের কোনো আসনেই বিজয়ী প্রার্থীদের পক্ষ থেকে পরাজিত প্রার্থীদের বাড়িতে যাওয়ার উদ্যোগ দেখা যায়নি।

নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে নবনির্বাচিত এমপিরা ইতোমধ্যে শপথ নিয়েছেন। তবে নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সৌজন্যতার যে প্রচলিত রীতি—পরাজিত প্রার্থীদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সাথে কুশল বিনিময় বা সৌজন্য সাক্ষাৎ—তা এবার বিজয়ীদের মধ্যে দেখা যায়নি। বিজয়ী প্রার্থীরা ব্যক্তিগতভাবে প্রতিদ্বন্দ্বীদের বাসায় যাননি।

নির্বাচনের পর সৌজন্য সাক্ষাৎ রাজনৈতিক পর্যায়ে সৌহার্দ্যের একটি ইতিবাচক বার্তা দেয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে নারায়ণগঞ্জে বিজয়ী সাংসদদের মধ্যে এ ধরনের সাক্ষাৎ এখনো হয়নি। এমনকি অতীতেও নারায়ণগঞ্জে সংসদ সদস্যদের মধ্যে এই চর্চা খুব একটা নিয়মিত ছিল না।

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে বিএনপির মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া (দিপু) ১ লাখ ৫৬ হাজার ৩৫৮ ভোট পেয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আনোয়ার হোসেন মোল্লা পেয়েছেন ৯১ হাজার ৬৯০ ভোট। ভোটের হার ছিল ৬৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ। তবে বিজয়ের পর দিপু ভূঁইয়া পরাজিত প্রার্থীর বাড়িতে যাননি।

তবে এই আসনে উল্টো একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ দৃষ্টান্ত দেখা গেছে। জামায়াতে ইসলামীর পরাজিত প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মোল্লা সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) মুড়াপাড়ায় দিপু ভূঁইয়ার বাড়িতে গিয়ে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় একে অপরকে ফুলের মালা পরিয়ে শুভেচ্ছা জানান তারা। আনোয়ার মোল্লা নবনির্বাচিত এমপিকে অভিনন্দন জানান এবং দিপু ভূঁইয়া রূপগঞ্জের স্থানীয় সমস্যা সমাধানে তাঁর সহযোগিতা কামনা করেন।

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে বিএনপির নজরুল ইসলাম আজাদ ১ লাখ ২৪ হাজার ২৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের ইলিয়াছ মোল্লা পেয়েছেন ৮১ হাজার ৫৪ ভোট। তিনিও প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে শপথ নিলেও নির্বাচন শেষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সিদ্ধিরগঞ্জ-সোনারগাঁ) আসনে বিএনপির আজহারুল ইসলাম মান্নান ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪০০ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের জামায়াত প্রার্থী মো. ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯১৮ ভোট। তিনিও প্রথমবার সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও রাজনৈতিক সৌজন্যতার অংশ হিসেবে কোনো আনুষ্ঠানিক সাক্ষাতের উদ্যোগ দেখা যায়নি।

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী আবদুল্লাহ আল আমিন ১ লাখ ৬ হাজার ১৭১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমী পেয়েছেন ৮০ হাজার ৬১৯ ভোট। শপথ নেওয়ার পর তিনি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেন। তবে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সৌজন্য সাক্ষাতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে পরাজিত প্রার্থীরা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আবদুল্লাহ আল আমিনকে। 

নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে চতুর্থবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির এডভোকেট আবুল কালাম। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ৭৯৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট সমর্থিত খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এ বি এম সিরাজুল মামুন পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ১৯৬ ভোট। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

জাতীয় নির্বাচনে এই রাজনৈতিক সৌজন্যতার চর্চা দেখা না গেলেও স্থানীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জে এর নজির রয়েছে। ২০১৬ সালের নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরদিন পরাজিত প্রার্থী বিএনপির এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের বাড়িতে গিয়ে মিষ্টি নিয়ে সাক্ষাৎ করেন। একইভাবে ২০২২ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পুনরায় বিজয়ী হওয়ার পর স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকারের বাসায় গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন আইভী। সে সময় দুজনই একে অপরকে মিষ্টিমুখ করান।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের পর সৌজন্য সাক্ষাৎ পারস্পরিক সম্মান ও সহনশীলতার বার্তা দেয়। যদিও সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের বিজয়ী প্রার্থীদের সরাসরি এমন উদ্যোগ দেখা যায়নি, তবে রূপগঞ্জে পরাজিত প্রার্থীর শুভেচ্ছা জানানো রাজনীতির মাঠে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়