মাদক–চাঁদাবাজি–কিশোর গ্যাং দমনে পাঁচ এমপির সামনে বড় পরীক্ষা
শিল্প ও বাণিজ্যের জন্য পরিচিত নারায়ণগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বড় সামাজিক সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার পাঁচটি আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং শিল্পাঞ্চল ও শহর এলাকায় নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হয়েছেন— বিএনপির এড. আবুল কালাম, মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, নজরুল ইসলাম আজাদ, আজহারুল ইসলাম মান্নান ও ১১ দলীয় জোটের শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এর এড. আব্দুল্লাহ আল আমিন।
দায়িত্ব নেওয়ার পরই তাদের সামনে মাদক কারবার, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং দমনের পাশাপাশি শিল্পাঞ্চল ও শহরকেন্দ্রিক সমস্যা সমাধানের চাপ তৈরি হয়েছে।
শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি, পরিবহন ও ব্যবসা খাতে নিয়মিত চাঁদা তোলা বহুদিন ধরে ওপেন সিক্রেট। কিশোর গ্যাংয়ের কারণে স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়েদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। এসব অপরাধ শুধু সাধারণ মানুষের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলছে না, ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
নারায়ণগঞ্জ শহর–বন্দর, ফতুল্লা–সিদ্ধিরগঞ্জ ও সোনারগাঁ শিল্পাঞ্চলে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক বসবাস করেন। এসব এলাকায় নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি গ্যাস সরবরাহ সংকটে বড় বড় কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যা ব্যবসা ও কর্মসংস্থানে প্রভাব ফেলছে। রান্নার গ্যাস সংকট নিয়েও এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে—নির্বাচনের আগে এসব সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নবনির্বাচিত এমপিরা।
শিল্পাঞ্চলমুখী প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহনের চলাচলে শহরে তীব্র যানজট তৈরি হচ্ছে। যানজট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ব্যবসায়িক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং শ্রমিকদের দৈনন্দিন জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
নির্বাচনের আগে রূপগঞ্জে এক সভায় মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বলেছিলেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস ও মাদকের দৌরাত্ম্য চলছে এবং এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এড. আব্দুল্লাহ আল আমিন বিজয়ের পর বলেন, নারায়ণগঞ্জকে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে; সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান থাকবে।
সোনারগাঁয়ের এক নির্বাচনী জনসভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছিলেন, নারায়ণগঞ্জ শহরে অন্তত ২০টি জায়গায় মাদক ব্যবসা হয়—এসব স্থান নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে পারলে এমপিরা দ্রুত মানুষের আস্থা অর্জন করবেন। তবে শুধু বক্তব্যে সমাধান হবে না। মাদক কারবারিরা দীর্ঘদিন ধরে শক্ত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে রাজনৈতিক শেল্টারের অভিযোগও রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে ব্যবসার পরিবেশ স্বাভাবিক হবে না। অভিযোগ করলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখার দাবি তাদের। নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হলে বিনিয়োগ বাড়বে, কর্মসংস্থানও বাড়বে।
সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জের পাঁচ এমপির সামনে এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা—মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং দমন এবং শিল্পাঞ্চল ও শহরের কাঠামোগত সমস্যা সমাধান। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে নারায়ণগঞ্জ হবে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও শিল্পবান্ধব একটি শহর।





































