১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ:

প্রকাশিত: ২০:৪৭, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রেকর্ড সংখ্যক ভোটে জয়ের পথে দিপু ভূঁইয়া

রেকর্ড সংখ্যক ভোটে জয়ের পথে দিপু ভূঁইয়া

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে সাতের মধ্যে মাত্র পাঁচ প্রার্থীই শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে রয়েছেন। তবে বিএনপির প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু ছাড়া অন্য প্রার্থীদের তেমন কোনো প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। ফলে আসনটিতে তিনি অনেকটাই নির্ভার অবস্থানে রয়েছেন। ভোটের দিন শক্ত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় দিপু ভূঁইয়া রেকর্ড সংখ্যক ভোটে বিজয়ের পথে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

স্থানীয় ভোটার, রাজনীতিক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রূপগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন। তাদের মধ্যে শুরু থেকেই এগিয়ে ছিলেন বিএনপির প্রার্থী দিপু ভূঁইয়া। বাকি প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে আলোচনায় ছিলেন দলের বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী ও যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. দুলাল হোসেন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মোল্লা। এছাড়া গণঅধিকার পরিষদের ওয়াসিম উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ইমদাদুল্লাহ, সিপিবির মনিরুজ্জামান চন্দন এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. রেহান আফজাল নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি দিপু ভূঁইয়া শুরু থেকেই সাংগঠনিক শক্তি, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং রূপগঞ্জে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত প্রভাবের কারণে শক্ত অবস্থানে ছিলেন। রাজনৈতিকভাবে তাকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছিল। তবে দলীয় বিভাজন তার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। মনোনয়নকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী মনিরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা এবং যুবদল নেতা দুলাল হোসেনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় শুরুতে তার নির্বাচনী পথ মসৃণ ছিল না।

মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে কাজী মনির প্রথমদিকে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় তেমন সক্রিয় ছিলেন না। এতে মাঠপর্যায়ে বিএনপির ঐক্যে কিছুটা ভাটা পড়ে। আর দলীয় ‘শৃঙ্খলা ভেঙে’ স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বহিষ্কৃত হন দুলাল হোসেন। তুলনামূলক কম প্রভাবশালী হলেও ভোটের মাঠে তিনি দিপুর প্রধান চ্যালেঞ্জার হিসেবে দেখা দেন। একই সঙ্গে তরুণ প্রার্থী হিসেবে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ওয়াসিম উদ্দিন আলোচনায় ছিলেন।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দিপু এসব বাধা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হন। তিনি কাজী মনিরের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছে তাকে ও তার অনুসারীদের নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার দিপুকে সমর্থন জানিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী দুলাল হোসেন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। পরদিন গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ওয়াসিম উদ্দিনও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালে ভোটের মাঠে দিপুর অবস্থান আরও শক্ত হয়।

বাকি চার প্রার্থীর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন দশদলীয় জোটের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মোল্লার নাম আলোচনায় থাকলেও রূপগঞ্জে দলটির সাংগঠনিক তৎপরতা ও মাঠপর্যায়ের শক্তি তুলনামূলকভাবে সীমিত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

সব মিলিয়ে দলীয় বিভাজন কাটিয়ে ওঠা, প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরে দাঁড়ানো এবং মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক ও ব্যক্তিগত প্রভাবের কারণে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বর্তমানে স্পষ্টভাবেই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়