গিয়াসের আয় বাড়লেও সম্পদ কমেছে, বেড়েছে দায়
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। প্রবীণ এ নেতা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দু’টি আসন থেকে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও প্রার্থী হতে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।
নির্বাচন কমিশনে দেওয়া দুই হলফনামার তথ্য বলছে, সাবেক এ সংসদ সদস্যের গত কয়েক বছরে আয় বাড়লেও সম্পদের পরিমাণ কিছু কমেছে। একইসঙ্গে বেড়েছে দায়ের পরিমাণও।
চলতি অর্থবছরে আয়কর রিটার্নের সঙ্গে জমা দেওয়া হিসেব অনুযায়ী গিয়াসউদ্দিনের মোট সম্পদের পরিমাণ ১৭ কোটি ৪ লাখ ১২ হাজার ২২ টাকা। তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১৬ কোটি ১ হাজার ৭৩৯ টাকা।
সাত বছর আগের হলফনামায় তিনি নিজের নামে ১৭ কোটি ৮ লাখ ৫৩ হাজার ২১১ টাকার সম্পদ রয়েছে বলে উল্লেখ করেছিলেন। তখন দুই স্ত্রীর সম্পদ দেখিয়েছিলেন ৮ কোটি ২৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৩৭ টাকা।
পেশায় ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিনের বছরে আয় ৩৫ লাখ ১৬ হাজার ১৯৬ টাকা। আগে তার আয় ছিল ২০ লাখ ৫ হাজার ২১০ টাকা।
আগে দুই স্ত্রীর আয় ছিল ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তবে, তার এক স্ত্রীর প্রয়ানের পর নতুন হলফনামায় অপর স্ত্রীর কোনো আয় উল্লেখ করেননি গিয়াস উদ্দিন।
হলফনামায় গিয়াসউদ্দিনের বর্তমানে মোট দায় দেখানো হয়েছে ৬ কোটি ৭৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৬৪ টাকা। একইভাবে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের দায় রয়েছে ২ কোটি ৭২ লাখ ৩৬ হাজার ২৯৭ টাকা।
তবে তাঁর নামে কোনো ব্যাংক ঋণ নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০১৮ সালে গিয়াসের নামে দায় ছিল ৩ কোটি ৩৮ লাখ ৪৭ হাজার ৩৬৪ টাকা। তখন স্ত্রী-সন্তানদের নামে কোনো দায় উল্লেখ করেননি তিনি।
এক সময় কৃষক লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা গিয়াস উদ্দিন পরে বিএনপিতে যোগ দেন। ২০০১ সালে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালেও তিনি আসনটিতে প্রার্থী হওয়ার জন্য ভোটের মাঠে নেমেছিলেন। কিন্তু পরে আসন সমঝোতায় বিএনপি জোটের দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে ছেড়ে দিলে তিনি দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে সরে আসেন। এবারও জমিয়তের মনির হোসাইন কাসেমীকে আসনটি ছেড়ে দিলেও গিয়াসউদ্দিন আসনটিতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ-সোনারগাঁ নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনেও সম্ভাব্য প্রার্থী।
গত ২৯ ডিসেম্বর দু’টি আসনেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। যদিও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে আজহারুল ইসলাম মান্নানকে ঘোষণা করেছে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ায় গত ৩১ ডিসেম্বর তাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।
অস্থাবর সম্পদ
গিয়াসের হাতে নগদ ৫১ লাখ ২৩ হাজার ৩২১ টাকা থাকলেও পাঁচটি ব্যাংক হিসাবে জমা আছে ৭ লাখ ৯২ হাজার ৮৭৯ টাকা। এছাড়া, এফডিআরে সঞ্চয় আছে ৭ লাখ ৮২ হাজার টাকা।
তাঁর নামে একটি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা মূল্যের ২০ ভরির স্বর্ণালঙ্কার ছাড়াও আসবাবপত্র ও বৈদ্যুতিক পণ্য রয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার টাকার।
গিয়াসের নামে ৫ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকার শেয়ারও রয়েছে।
স্ত্রী রেশমা বেগম কোনো আয় না থাকলেও বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে। স্ত্রীর নগদ অর্থ দেখানো হয়েছে ৬ লাখ ৯ হাজার ৬০৫ টাকা।
কিন্তু কোম্পানির শেয়ার বিনিয়োগ রয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।
স্বর্ণালঙ্কার আছে ২৫ ভরি। যার অর্জনকালীন মূল্য ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
আসবাবপত্র ও উলেকট্রনিক্স পণ্য রয়েছে ৬০ হাজার টাকার।
স্থাবর সম্পদ
অকৃষি জমির ক্ষেত্রে গিয়াসউদ্দিনের মালিকানায় রয়েছে ৪৩০ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি। যার মূল্য ৬১ লাখ ২৯ হাজার ৯০৮ টাকা দেখানো হয়েছে। তাঁর স্ত্রীর নামে রয়েছে ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ অকৃষি জমি, যার মূল্য ৭ লাখ ৬৮ হাজার ৬৯৩ টাকা।
এছাড়া, ১৪ দশমিক ১৩ শতাংশ জমি বায়না করা আছে। যার মূল্য ৫০ লাখ ৯৬ হাজার ৬৩১ টাকা।
চিটাগাং রোড এলাকায় গিয়াসের ৮ কোটি ৯২ লাখ ৪৫ হাজার ১৬৩ টাকার মূল্যের একটি বাণিজ্যিক ভবন ও হিরাঝিল এলাকায় ১ কোটি ২ লাখ ৬৯ হাজার ৪০৮ টাকার আরেকটি বহুতল ভবন রয়েছে।
এছাড়া, পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ১১ দশমিক ৫ শতাংশ জমির উপর ৫ তলাবিশিষ্ট একটি ভবন রয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জের পশ্চিম কলাবাগের ওমরপুর এলাকায়। যার মূল্য ৭ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে। শহরের চাষাড়ায় সমবায় নিউ মার্কেটে ১০৩ বর্গফুটের একটি দোকানও রয়েছে তার নামে।
মামলা
বিগত সময়ে ৬৯টি মামলায় অভিযুক্ত হন বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত নেতা গিয়াস উদ্দিন। অধিকাংশ মামলায়ই সন্ত্রাসবিরোধী আইন, বিস্ফোরক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা। এসব মামলার একটিও চলমান নেই। কোনটিতে তিনি খালাস পেয়েছেন, বাকিগুলোতে অব্যাহতি কিংবা মামলা স্থগিত রয়েছে।





































