১৭ জুন ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২০:৪৩, ১৭ জুন ২০২৬

বর্ষায় ডেঙ্গু শঙ্কা, আগাম প্রস্তুতিতে জেলা প্রশাসন ও নাসিক

বর্ষায় ডেঙ্গু শঙ্কা, আগাম প্রস্তুতিতে জেলা প্রশাসন ও নাসিক

বর্ষা এলেই ডেঙ্গুর আতঙ্ক ফিরে আসে। জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার বিস্তার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। এ পরিস্থিতি মাথায় রেখে নারায়ণগঞ্জে আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছে জেলা প্রশাসন ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক)।

গত বছর জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল ২ হাজার ৩৮৫ জন। এর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়। তবে চলতি বছর ১৫ জুন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১০ জন। এর মধ্যে আটজন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকলেও বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন।

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, জেলার যেসব স্থানে মশার লার্ভা জন্ম নেয়, সেগুলো চিহ্নিত করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় কীটনাশক প্রয়োগের মাধ্যমে লার্ভা ধ্বংসে কাজ চলছে।

তিনি আরও জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে নাসিক জানিয়েছে, ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে ওয়ার্ডভিত্তিক মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত ফগিং কার্যক্রম এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কাজ চলছে।

একটি সভায় নাসিকের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, যে ওয়ার্ডে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি থাকবে, সেই ওয়ার্ডের সচিবকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। অন্যদিকে যেসব ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগী ও মশার উপদ্রব কম থাকবে, সেসব ওয়ার্ডের সংশ্লিষ্টদের পুরস্কৃত করা হবে।

সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা বা আশপাশে কোথাও যেন তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বর্ষার শুরুতেই নেওয়া এসব উদ্যোগ ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কতটা কার্যকর হবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে এখনই সতর্কতা অবলম্বন করলে বড় ধরনের সংক্রমণ এড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়