ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে কিছু সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে, সমাধান হবে: ডিসি
নারায়ণগঞ্জের হাসপাতালগুলোর পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে কঠোর নজরদারির ঘোষণা দিয়েছে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। একই সঙ্গে আউটসোর্সিং কর্মীদের উপস্থিতি, চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালন এবং হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ নিয়মিত তদারকির আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শনের পর দেওয়া নির্দেশনার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালটি পরিদর্শন করে পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান নিয়ে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ দেন। তিনি আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োজিত কর্মীদের উপস্থিতিও যাচাই করেন। কর্মীদের নাম, মোবাইল নম্বর এবং দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো সরাসরি পরীক্ষা করে দেখেন তিনি।
পরিদর্শনকালে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে স্তুপাকারে পড়ে থাকা ভাঙাচোরা মালামাল, আবর্জনা এবং রান্নাঘর সংলগ্ন অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দ্রুত অপসারণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনার বাস্তবায়ন কতদূর হয়েছে তা সরেজমিনে পর্যালোচনা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, এ সময় রোগী, চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়।
জেলা প্রশাসক জানান, আগের তুলনায় হাসপাতালের পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তবে দীর্ঘদিনের অপরিচ্ছন্নতা এক বা দুই দিনের অভিযানে পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। এজন্য ধারাবাহিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের বিভিন্ন দেয়ালের মধ্যবর্তী স্থান, খালি জায়গা এবং ঝোপঝাড় পরিষ্কারের কাজ দ্রুত শুরু করা প্রয়োজন। এসব স্থানে এখনো ময়লা-আবর্জনা ও আগাছা রয়েছে, যা স্থানীয়ভাবেই সমাধান করা সম্ভব।
পরিদর্শনকালে হাসপাতালের পানির সমস্যার বিষয়ে তিনি বলেন, রোগীদের সঙ্গে কথা বলে এবং সরেজমিনে পরিদর্শন করে পানির সংকটের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সমস্যার দ্রুত সমাধানের আশ্বাস পাওয়া গেছে।
একই সঙ্গে হাসপাতালের বিভিন্ন বাথরুম, আলোকসজ্জা এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত সমস্যাও চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব বিষয় ধাপে ধাপে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক বলেন, জেলার তিনটি প্রধান হাসপাতালের পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও একই ধরনের মনিটরিং কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিয়মিত তদারকি বাড়ানো হবে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে হাসপাতাল এলাকায় চুরি, দালালচক্র এবং মাদকসেবীদের আনাগোনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদারে আনসার সদস্য নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে দালাল ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আউটসোর্সিং কর্মীদের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ডিউটি রোস্টারে থাকা প্রত্যেক কর্মীকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। অনুপস্থিতি বেশি হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের অর্থ ব্যয় করে সেবা নেওয়া হলে সেই সেবার মান নিশ্চিত করতেই হবে।
এছাড়া নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, যোগ্যতা ও দক্ষতা যাচাই আরও কঠোরভাবে করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
রাতের বেলায় চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির অভিযোগ রায়হাস কবির বলেন, ডাক্তার সংকট থাকলেও যে সংখ্যক চিকিৎসক ডিউটি রোস্টারে থাকবেন, তাদের অবশ্যই দায়িত্ব পালন করতে হবে। যদি কোনো শিফটে দুইজন চিকিৎসকের দায়িত্ব থাকে, তাহলে সেই দুইজনকে উপস্থিত থাকতে হবে। চিকিৎসক স্বল্পতা একটি বাস্তবতা হলেও দায়িত্বে অবহেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে নিয়মিত মনিটরিং অব্যাহত থাকবে এবং হাসপাতালগুলোকে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।





































