স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পর পরিচ্ছন্নতায় ব্যস্ত ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল
আগের দিন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পর পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে নজর দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতাল। সোমবার (১৪ জুন) বিকেলে ব্যবহার অযোগ্য শয্যা, রান্নার তৈজসপত্র, আসবাব হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নিতে দেখা গেছে।
পরিচ্ছন্নতার এ কার্যক্রম সকাল থেকেই চলছে বলে জানালেন এই কাজে নিয়োজিত স্বাস্থ্য কর্মীরা।
একদিন আগে, রোববার এ হাসপাতালে ১০ শয্যার আইসিইউ কার্যক্রম উদ্বোধন করতে এসে চরম অব্যবস্থাপনা ও নোংরা পরিবেশ দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
মন্ত্রী এ সময় জেলা সিভিল সার্জন ডা. এএফএম মুশিউর রহমানকে হাসপাতালের অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র অপসারণ ও পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম চালাতে তিনদিনের সময় বেঁধে দেন।
এ হুঁশিয়ারির পরদিন নগরীর এ হাসপাতালটিতে পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম জোরদার করতে দেখা গেছে। বিকেলে প্রবেশ করতেই হাসপাতালের আঙিনায় পুরাতন আসবাব ও তৈজসপত্র স্তূপ করে রাখা পাওয়া যায়। ট্রাকে ভর্তি করে সেসব নেওয়া হচ্ছিল বাইরে। একজনকে পুরাতন একটি আলমিরা কাঁধে করে বের হতে দেখা যায়।
হাসপাতালের ভেতরে নিচতলায় তখনো চলছিল পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম। কিছু কাগজপত্র এদিক-সেদিক ছিটিয়ে ছিল।
তবে, হাসপাতালের উপর তিনটি তলা ছিল অন্য দিনের তুলনায় অনেকটাই পরিচ্ছন্ন। হাসপাতালের টয়লেট, বেসিন ও মেঝেও প্রমাণ দিচ্ছিল যে, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আল্টিমেটাম কাজে দিয়েছে।
এ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের নার্স সেলিনা আক্তার জানালেন, সকালেই শুরু হয়েছে পরিচ্ছন্নতার এ যজ্ঞ। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়মিত চললেও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আগেরদিনের বক্তব্যের পর বেশি নজর দেওয়া হচ্ছে।
এ বিভাগ ঘুরে চেয়ারগুলো পরিষ্কার ও পরিকল্পিতভাবে সাজানো পাওয়া যায়। ভেতরে ওয়ার্ডের মেঝেও ছিল পরিচ্ছন্ন।
তৃতীয় তলায় রোগীদের স্বাস্থ্য পরামর্শ দিচ্ছিলেন তাসলিম মেহেনাজ। তার দাবি, হাসপাতাল সবসময়ই পরিষ্কার থাকে। কিন্তু রোগী ও কর্মচারীদের আসা-যাওয়াতে নোংরা হয়। তাছাড়া, মেঝে পুরোনো হয়ে যাওয়াতেও অপরিচ্ছন্ন দেখা যায় বলে দাবি তার।
তবে, সবচেয়ে বেশি পরিচ্ছন্ন পাওয়া গেছে চতুর্থ তলার সদ্য উদ্বোধন করা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)।
তবে, হাসপাতালের ছাদের দরজা তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। ছাদের তালাবদ্ধ থাকায় অগ্নিদুর্ঘটনা বা কোনো দুর্যোগের সময় জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও হাসপাতালের কর্মীরা জানান, এটি সবসময় বন্ধই থাকে। ছাদ খোলা হয় না।





































