১৬ জুন ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২১:১৬, ১৫ জুন ২০২৬

আপডেট: ২১:১৭, ১৫ জুন ২০২৬

ব্র্যাকের শিখন তরী: নদীপথে হাতে-কলমে শিক্ষা-অভিজ্ঞতায় উচ্ছ্বসিত শিশুরা

ব্র্যাকের শিখন তরী: নদীপথে হাতে-কলমে শিক্ষা-অভিজ্ঞতায় উচ্ছ্বসিত শিশুরা

শিশুদের পরিবেশ, ডিজিটাল ও ইতিহাস বিষয়ে শেখাতে ব্র্যাকের অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিখন তরীর বহরে তিনটি নতুন তরী যুক্ত হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) নারায়ণগঞ্জের কদম রসুল দরগাহ মাঠে নতুন শিখন তরীগুলো উদ্বোধন করেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্‌।

আয়োজকরা জানান, দেশের সবচেয়ে দুর্গম নদীভাঙন ও হাওরাঞ্চলের শিশুদের কাছে হাতে-কলমে শেখার অভিজ্ঞতা পৌঁছে দিতে এসব ভাসমান তরীর সংযোজন। এসব তরী নদীবেষ্টিত অঞ্চলের শিশুদের এমন সব প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে, যেগুলোর অভিজ্ঞতা তারা আগে কখনও পায়নি।

প্রতিটি তরী একটি এলাকায় সাধারণত সাত থেকে ১০ দিন অবস্থান করে এবং প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এতে শিশুদের পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় মানুষও অংশ নিতে পারেন। প্রতিবন্ধী শিশু ও ব্যক্তিদের সহজে প্রবেশ নিশ্চিত করতে বিশেষ র‌্যাম্প তৈরি করা হয়েছে বলেও জানান তারা।

অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের নির্বাহী আসিফ সালেহ্‌ বলেন, মুখস্তবিদ্যা দিয়ে হয়তো পরীক্ষায় পাস করা যায়, কিন্তু বাস্তব জীবনে সমস্যার সমাধান করা যায় না। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার বড় ঘাটতি হলো, শ্রেণীকক্ষে শেখার সঙ্গে বাস্তব জীবনের সংযোগটি শিক্ষার্থীদের সামনে স্পষ্ট করে তুলে ধরা হয় না।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে সমস্যা অনেক, কিন্তু সমাধান দেওয়ার মানুষ কম। আমি চাই শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে সমস্যা সমাধানের জন্য যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে উঠুক। ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হলে শুধু তথ্য মুখস্ত করলেই হবে না; বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধান করার সক্ষমতাও গড়ে তুলতে হবে। 

আসিফ সালেহ্ বলেন, আমরা বইয়ে যা পড়ি, খবর ও ইন্টারনেটে যা দেখি, সেগুলোকে হাতে-কলমে অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বোঝার সুযোগ তৈরি করাই শিখন তরীর মূল উদ্দেশ্য। এ কারণেই এই নৌকাগুলা দেশর বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করবে এবং শিক্ষার্থীদের সরাসরি অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জানা, বোঝা ও শেখার সুযোগ সৃষ্টি করবে।

শিখন তরীর কার্যক্রম ও উপকরণগুলো বিশেষভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য সাজানো হয়েছে, তবে অন্যান্য শিক্ষার্থী এবং দর্শকেরাও এখানে শেখার আনন্দ অনুভব করতে পারবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও মাইগ্রেশন কর্মসূচির পরিচালক সাফি রহমান খান বলেন, ব্র্যাকের জন্য এই তরীগুলো শুধু শিক্ষার উপকরণ নয়। এগুলো এমন কিছু জায়গা, যা শিশুদের কল্পনাশক্তিকে প্রসারিত করে এবং এমন সব জগতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়, যেগুলোর অভিজ্ঞতা তারা অন্য কোথায়ও হয়তো কখনো পেত না।

ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির হেড অব সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজেস নিভিন রেজা বলেন, হাওর ও নদীবেষ্টিত অঞ্চলের শিশুদের জন্য এই তরীগুলো অনেক সময় প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান, রোবোটিকস, পরিবেশগত সিমুলেশন, অগমেন্টেড রিয়েলিটি, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি, ইন্টারঅ্যাকটিভ গল্প বলা কিংবা হাতে-কলমে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের সঙ্গে প্রথম পরিচয়ের ক্ষেত্র হয়ে ওঠে।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শিবানী সরকার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাইয়ুম খান এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজমল হোসেন। তারা শিখন তরীগুলো ঘুরে দেখেন।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়