০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২১:৫০, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বিচার ব্যবস্থা হাসিনার মডেলেই চলছে: রফিউর রাব্বি

বিচার ব্যবস্থা হাসিনার মডেলেই চলছে: রফিউর রাব্বি

তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর পিতা শিল্পী রফিউর রাব্বি বলেছেন, “শেখ হাসিনা দেশে বিচারব্যবস্থাকে যেভাবে ধ্বংস করে রেখে গেছেন, তার উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি। মামলা বাণিজ্য, বেছে বেছে বিচার করা, বিচার বন্ধ রাখা—এসবই হাসিনার মডেলেই চলছে। এ সরকারের কেউ কেউ ত্বকী হত্যার বিচারের কথা বললেও কার্যত তা হয়নি। শেখ হাসিনা নিজ দলীয় ওসমান পরিবারের ঘাতকদের রক্ষা করতে চেয়েছে, কিন্তু এই সরকার কাদের রক্ষায় কাজ করছে, আমরা জানি না।”

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় চাষাঢ়া শহীদ মিনারে তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা ১৫৫ মাস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, “ত্বকী হত্যার বিচারে অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনা সরকারের মতোই ব্যর্থ হয়েছে। তারা দেড় বছর ক্ষমতায় থাকলেও ত্বকী হত্যার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয়নি। শেখ হাসিনা সাড়ে এগারো বছর এই বিচার বন্ধ করে রেখেছিল, আর এ সরকার দেড় বছরে এই বিচারের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি করতে পারেনি।”

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের আগে এখন সবাই ভালো ভালো কথা বলছেন, কিন্তু আমরা জানি না ক্ষমতায় গিয়ে তারা কতটা প্রতিশ্রুতি রাখবেন। কারণ আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা কখনোই ভালো ছিল না।”

দৈনিক খবরের পাতার সম্পাদক এডভোকেট মাহাবুবুর রহমান মাসুম বলেন, “আইন উপদেষ্টাসহ সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা ত্বকী হত্যার বিচার করবে বলে কথা দিলেও তারা কথা রাখেননি। তারা কথার খেলাপ করেছেন। একে পরিভাষায় মোনাফেকি বলা হয়।”

সংগঠনের সভাপতি মনি সুপান্থ’র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক দিনা তাজরীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বি, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্যসচিব হালিম আজাদ, দৈনিক খবরের পাতার সম্পাদক এডভোকেট মাহাবুবুর রহমান মাসুম, শিশু সংগঠক রথীন চক্রবর্তী, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক দীপু, ন্যাপ জেলা সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আওলাদ হোসেন, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টা প্রদীপ ঘোষ বাবু, সিপিবি কেন্দ্রীয় সদস্য এডভোকেট মন্টু ঘোষ, বাসদ জেলা সদস্যসচিব আবু নাইম খান বিপ্লব এবং সামাজিক সংগঠন সমমনার সাবেক সভাপতি দুলাল সাহা।

সভায় বক্তারা সাগর-রুনি, তনুসহ নারায়ণগঞ্জে ওসমান পরিবারের হাতে নিহত আশিক, চঞ্চল, বুলু, মিঠুসহ সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরীর শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী নিখোঁজ হয়। দু’দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছরের ১২ নভেম্বর আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত ভ্রমর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানায়, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়।

৫ মার্চ ২০১৪ তদন্তকারী সংস্থা র‍্যাব সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের নির্দেশে তাদেরই টর্চার সেলে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করা হয়েছে এবং অচিরেই তারা অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করবে। কিন্তু সেই অভিযোগপত্র আজও দাখিল করা হয়নি।

ত্বকী হত্যার পর থেকে বিচার শুরু ও চিহ্নিত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতি মাসের ৮ তারিখ আলোক প্রজ্বালনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়