ঈদের জামা কিনে দেবার কথা বলে অপহরণ: শিশু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে অপহরণের শিকার ৯ বছরের এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে কয়েক ঘন্টার মধ্যে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত এক অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত শনিবার (২১ মার্চ) জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৯ মার্চ বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বন্দর থানার চানপুর এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে মোহাম্মদ হোসেন (৯) খেলাধুলার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি মোশারফের পরিচিত মো. হৃদয়ের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে কল করে জানায়, শিশুটিকে অপহরণ করা হয়েছে এবং মুক্তিপণ হিসেবে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তারা পুনরায় যোগাযোগ করে মুক্তিপণের জন্য চাপ দিতে থাকে।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বন্দর থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সীর নির্দেশনায় এ ঘটনার তদন্তে দুটি টিম গঠন করা হয়।
পরে অভিযান চালিয়ে শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইসলামপুর এলাকা থেকে আলী হোসেন (১৯) নামে এক অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও বিকাশের মাধ্যমে উত্তোলিত নগদ টাকা জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত আলী হোসেন পূর্বপরিকল্পিতভাবে শিশুটির সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলে। পরে ঈদের নতুন জামা ও কেনাকাটার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে অপহরণ করে ঢাকার কদমতলী থানাধীন শ্যামপুরের কমিশনারের গলি এলাকায় তার ভাড়া বাসায় আটকে রাখে।
পরে অপহরণকারীরা শিশুটির ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে প্রথমে ১০ লাখ টাকা, পরে ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। একইসঙ্গে তাকে ভারতে পাচার ও হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগীর পরিবার অপহরণকারীর বিকাশ অ্যাকাউন্টে প্রথমে ৫ হাজার ও পরে ১০ হাজার টাকা পাঠায়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বন্দর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে আজ ভোর ৫টার দিকে ঢাকার শ্যামপুর এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে বন্দর থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার তদন্ত করছেন থানার এসআই তৌহিদুল ইসলাম। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।





































