রূপগঞ্জে বিদেশি রিভলবার-গুলিসহ বাড্ডার শীর্ষ সন্ত্রাসী হেলাল গ্রেপ্তার
রাজধানীর বাড্ডা থানার অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও একাধিক মামলার আসামি মো. শফিকুল ইসলাম হেলালকে (৩৭) নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে বিদেশি রিভলবার ও গুলিসহ গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রূপগঞ্জ থানার গোয়ালপাড়া এলাকা থেকে র্যাব-১-এর একটি আভিযানিক দল তাকে গ্রেপ্তার করে।
র্যাব-১ জানায়, রাজধানীর বাড্ডা থানাধীন বেড়াইদ সাতারপুল কাজীবাড়ি ও নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জের নাওরা এলাকায় সক্রিয় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী মো. শফিকুল ইসলাম হেলাল ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও মাদক ব্যবসা করে আসছিল। এমন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১ তার কার্যক্রম ও গতিবিধির ওপর নজরদারি শুরু করে।
প্রযুক্তিগত তথ্য ও মাঠপর্যায়ের গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণে জানা যায়, হেলালের বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় একাধিক হত্যা, অস্ত্র, মারামারি ও চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। তার এক সহযোগী মোজাম্মেল ছয় মাস আগে অবৈধ অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হওয়ার পর হেলাল বাড্ডা এলাকা ছেড়ে নাওরা এলাকায় আত্মগোপন করে। সেখানে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল।
র্যাব জানায়, ১৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, হেলাল তার ভাড়া বাসা থেকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলে বাড্ডার দিকে রওনা হচ্ছেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে রূপগঞ্জ থানাধীন জলসিঁড়ি এলাকায় লিংক ব্রিজ-১ মোড়ে অবস্থান নেয় র্যাবের আভিযানিক দল। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেলসহ তাকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তার ভাড়া বাসার শয়নকক্ষের বালিশের নিচ থেকে গুলিভর্তি একটি বিদেশি রিভলবার, চাঁদাবাজির নগদ ৩ লাখ ২৬ হাজার ১০০ টাকা, দুটি মোবাইল ফোন, একটি পকেট রাউটার ও একটি পাওয়ার ব্যাংক জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক হেলাল উদ্ধারকৃত অস্ত্রটি তার নিজের বলে স্বীকার করেছে। সে জানায়, অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত। এছাড়া সে বাড্ডার শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘রবিন গ্রুপ’র সক্রিয় সদস্য বলেও স্বীকার করেছে।
র্যাব আরও জানায়, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটাতে ওই অস্ত্র ব্যবহার করার পরিকল্পনাও থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আটক আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।





































