এলপিজি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি: কদর বেড়েছে লাকড়ি চুলার
বন্দরে এলপিজি গ্যাস বিক্রি বন্ধ থাকায় কদর বেড়েছে লাকড়ির চুলার। হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এলপিজি গ্যাস না পেয়ে লাকড়ির দোকানগুলোতে ভিড় করছেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এলপিজি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সারাদেশের মতো বন্দরের বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে উচ্চমূল্যে গ্যাস বিক্রির দায়ে দোকানিদের জরিমানা করা হয়। এর কয়েকদিন পরই সারাদেশে এলপিজি গ্যাস বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে। ফলে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা। কবে এ সংকট থেকে মুক্তি মিলবে, তা এখনও অনিশ্চিত।
এ অবস্থায় গ্যাসের চুলার বিকল্প হিসেবে বন্দরে লাকড়ির চুলার কদর বেড়েছে। আবাসিক গ্রাহকরা ঝুঁকছেন লাকড়ির চুলার দিকে। একই সঙ্গে বেড়েছে চুলা প্রস্তুতকারীদের ব্যস্ততা। আগে যেখানে লাকড়ির চুলার বিক্রি খুবই কম ছিল, সেখানে এখন নিয়মিত বিক্রি হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নসহ সিটি এলাকার বন্দর ২১ নম্বর ওয়ার্ডের শাহীমসজিদ, ছালেহনগর, এনয়েতনগর; ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বন্দর বাজার, খানবাড়ি; ২৩ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাকান্দা, মাহমুদনগর; ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের মদনগঞ্জ; ২৪ নম্বর নবীগঞ্জ, লক্ষণখোলা, দাসেরগাঁও; ২৭ নম্বর হরিপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট চলছে।
এসব এলাকার মানুষজন সময়মতো রান্না করে খাওয়া-দাওয়া করতে পারছেন না। বিশেষ করে সরকারি-বেসরকারি অফিসগামী মানুষজন সকালে বাসা থেকে নাস্তা করে বের হতে পারছেন না। সময়মতো খাবার খেতেও পারছেন না তারা।
এ অবস্থায় যাদের বাসায় লাকড়ি দিয়ে রান্নার ব্যবস্থা রয়েছে, তারা লাকড়ির চুলা কিনে খাবারের চাহিদা মেটাচ্ছেন। কেউ কেউ সিমেন্ট বা মাটির তৈরি চুলা বাসায় রাখছেন। গ্যাস না থাকলে মাটির চুলাই এখন অনেক গৃহিণীর একমাত্র ভরসা।
ঘারমোড়া এলাকার মাটির চুলা প্রস্তুতকারক সেলিম মিয়া বলেন, “আগে লাকড়ির চুলা তেমন বিক্রি হতো না। এখন নিয়মিতই বিক্রি হচ্ছে। রড, বালু ও সিমেন্টের সমন্বয়ে এসব চুলা তৈরি করা হয়। প্রকারভেদে দাম ভিন্ন। ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় চুলা বিক্রি হচ্ছে।”
বন্দর রেললাইন এলাকার স্যানিটারি ব্যবসায়ী সোহাগ বলেন, “আমার দোকানে কয়েকটি চুলা তৈরি করা ছিল। গত কয়েকদিনেই সব বিক্রি হয়ে গেছে। এখন নতুন করে চুলা তৈরি করছি। আগের তুলনায় চাহিদা অনেক বেড়েছে।”
সোনাকান্দা এলাকার মাটির চুলা বিক্রেতা কুলছুম জানান, “এখন নিয়মিত মাটির চুলা বিক্রি হচ্ছে। তাই বেশি করে চুলা বানাচ্ছি।”
আরেক বিক্রেতা জুলহাস বলেন, “প্রতিদিনই মাটির চুলা বিক্রি হচ্ছে। ১৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০ টাকায় চুলা বিক্রি করছি। শহর ও বন্দরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসে চুলা নিয়ে যাচ্ছেন।”
বন্দর বাবুপাড়া এলাকার বাসিন্দা আফরোজা আক্তার বলেন, “দিনের বেলা একেবারেই গ্যাস থাকে না। রাতে যে অল্প থাকে, তাতে কোনো কাজই করা যায় না। রান্না করা খুব কষ্টকর। তাই বাধ্য হয়ে মাটির চুলায় রান্না করছি। অথচ মাস শেষে গ্যাস বিল ঠিকই দিতে হয়।”
সোনাকান্দা এলাকার বাসিন্দা ইমন হোসেন বলেন, “গ্যাসের অবস্থা বলার মতো না। গত কয়েক মাসে সকালে একদিনও বাসায় রান্না করে খেতে পারিনি। দোকান থেকে নাস্তা কিনে খেতে হয়। বাসায় একটি লাকড়ির চুলা এনেছি, কিন্তু তা দিয়ে সবার রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা খুব খারাপ অবস্থার মধ্যে আছি।”
মদনপুর এলাকার এক ব্যবসায়ী বলেন, “আগে রাত ১১টার পর কিছুটা গ্যাস পাওয়া গেলেও এখন গভীর রাতেও গ্যাস থাকে না। গ্যাস সংকটে আমাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে গেছে।”





































