লক্ষ্মীনারায়ণ কটনমিল: শেয়ারহোল্ডারদের উপর নীট কনসার্ন মালিকপক্ষের ‘হামলা’
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলের শেয়ারহোল্ডাদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে নীট কনসার্ন গ্রুপের মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে। এ হামলার ঘটনায় নারীসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত দশটার দিকে গোদনাইল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
আহতদের মধ্যে এমিলি নামে এক নারীর মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা। এছাড়া, আহত সাইফুল ও আরমান নামে দুই পুরুষের নাম পাওয়া গেছে, যারা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
একইদিন নিরাপত্তার শঙ্কায় শেয়ারহোল্ডাররা জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার ও স্থানীয় থানায় লিখিত দিয়েছিলেন। এই লিখিত দেওয়ার কয়েক ঘন্টা পরই তাদের উপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানান মো. ইয়াকুব নামে শেয়ারহোল্ডারদের একজন।
শেয়ারহোল্ডারদের অভিযোগ, ২০০১ সালে সরকারি সিদ্ধান্তে লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলের মালিক হন ৫১০ জন শ্রমিক ও কর্মচারী। কিন্তু শেয়ারহোল্ডারদের অনেকের কাছ থেকে রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান নীট কনসার্ন গ্রুপ অধিকাংশ শেয়ার কিনে নেয়। কিন্তু অর্ধশত শেয়ারহোল্ডার তাদের শেয়ার হস্তান্তর না করার সিদ্ধান্ত নিলে তাদের উপর বিগত সময়ে নানা অত্যাচার করা হয়। এ নিয়ে আদালতে কয়েকটি মামলাও চলমান রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নীট কনসার্ন গ্রুপের পক্ষ নিয়ে স্থানীয় যুবদল নেতা শফিকুল ইসলাম ও তার লোকজন শেয়ারহোল্ডারদের বাড়িঘরে মঙ্গলবার রাতে হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন।
শেয়ারহোল্ডার মো. ইয়াকুব বলেন, “শ্রমিক-কর্মচারীদের শেয়ারহোল্ডার বানানোর পরে আমরা পরিচালনা পরিষদ গঠন করে মিলটি চালিয়েছিলাম। কিন্তু ওই সময় শামসুদ্দিন সাহেবকে চেয়ারম্যান বানানো হলে তিনি তার আত্মীয় নীট কনসার্ন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জয়নাল আবেদীনকে লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলে বিনিয়োগকারী হিসেবে যুক্ত করেন। তখন আমাদের বিনিয়োগে লাভ হবে এবং দ্রুত সরকারি ঋণও পরিশোধ করা যাবে বলে প্রলোভন দেখিয়ে নিজেরাই শেয়ার হস্তান্তর করতে শুরু করেন। কিন্তু আমরা কয়েকটি পরিবার শেয়ার বিক্রি না করায় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও যেমন অত্যাচার নির্যাতন চালিয়েছে, এখনো তাই করছে। আমরা খুবই মানবেতর জীবন-যাপন করতেছি।”
তবে, এ বিষয়ে কথা বলতে নীট কনসার্ন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জয়নাল আবেদীন মোল্লা ও তার ভাই গ্রুপের পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন মোল্লার মুঠোফোনের নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।
এদিকে, মঙ্গলবারের হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, “কটন মিল এলাকায় মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুরোধে যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে সেখানে একটি খেলার মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে উদ্দেশ্যে খালি জমিতে বালু ভরাটের কাজ শুরু হলে কয়েকজন নারী-পুরুষ এসে বাধা দেন এবং উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন বলে দাবি করেন।”
ঘটনাস্থলে যাওয়া সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সালেকুজ্জামান জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। উভয়পক্ষকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।”





































