২৫ জানুয়ারি ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ:

প্রকাশিত: ২০:১৭, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি নিয়ে প্রার্থীদের অভিযোগ: আশ্রয় দিচ্ছে কে?

সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি নিয়ে প্রার্থীদের অভিযোগ: আশ্রয় দিচ্ছে কে?

নারায়ণগঞ্জের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে শহরের নির্বাচনী মাঠে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির অভিযোগ যেন স্থায়ী আলোচনা। শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত এই জেলায় দীর্ঘদিন ধরেই অপরাধ, চাঁদাবাজি ও প্রভাবশালী চক্রের দাপটের খবর শোনা যায়। এবার নির্বাচনের আগেই প্রায় সব প্রার্থীর মুখে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ—সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির সঙ্গে সম্পৃক্ততা।

বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৪ ও ৫ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলছেন। কেউ বলছেন, প্রতিপক্ষ ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে; কেউ বলছেন, অপরাধী চক্রকে সঙ্গে নিয়ে ভোট চাইছে প্রতিদ্বন্দ্বীরা। একই সঙ্গে ভোটারদের মনে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে—যদি সবাই সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে হন, তাহলে আশ্রয় দিচ্ছে কে?

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন দশ দলীয় জোটের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন অভিযোগ করেছেন, প্রতিপক্ষের পৃষ্ঠপোষকতার সঙ্গে শামীম ও সেলিম ওসমানের সন্ত্রাসীরা জড়িত। ২২ জানুয়ারি হাজীগঞ্জে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করে আল আমিন বলেন, “বিভিন্ন প্রার্থীর লোকজন প্রকাশ্যে ও আড়ালে তাদের নেতাকর্মীদের হুমকি দিয়ে বলছে, ভোট টাকায় বা সন্ত্রাসে হবে। এ ধরনের বক্তব্য জনগণের ভোটাধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। নারায়ণগঞ্জ থেকে শামীম ওসমানকে পালাতে বাধ্য করা হয়েছিল, ভবিষ্যতেও কেউ গায়ের জোরের রাজনীতি করলে জনগণ তাদের পালাতে বাধ্য করবে।”

তবে অভিযোগ শুধু আল আমিনের নয়। বিএনপি জোট মনোনীত প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীও স্বতন্ত্র ও শিল্পপতি প্রার্থীদের কালো টাকা ছড়ানো এবং পেশিশক্তি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলেছেন। ফতুল্লা ও কাশিপুরে নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি বলেন, “একাধিক স্বতন্ত্র ও শিল্পপতি প্রার্থী কালো টাকা ও পেশিশক্তির ব্যবহার করছেন। তাদের নেতা-কর্মীরা হুমকি দিচ্ছে। যদি কেউ সন্ত্রাসী বা চাঁদাবাজ হয়, ক্ষমা চেয়ে নিন, তা না হলে পার পাবেন না। নির্বাচনে সাধারণ মানুষ তাদের প্রতিহত করবে।”

এছাড়া নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন অভিযোগ করেছেন, প্রতিপক্ষ এলাকার সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে। তিনি বলেন,
“আমাদের নেতাকর্মীদের ভয় দেখাচ্ছে, হুমকি দিচ্ছে। মানুষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের চেহারা চিনে। যেই মাওলানা সাবের সঙ্গে থাকে, তার চরিত্রও বোঝা যায়। এ ধরনের প্রার্থীরা জনগণের ভোটাধিকারকে প্রভাবিত করতে চাচ্ছে।”

স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ শাহ আলমও ফতুল্লার রঘুনাথপুরে অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন প্রার্থীর লোকজন হুমকি-ধমকি দিচ্ছে এবং টেলিফোনের মাধ্যমে ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছে। তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সুষ্ঠু ও নিরাপদ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেন অভিযোগ করেছেন, তার কর্মীদের গণসংযোগ ও বিলবোর্ড স্থাপনে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তারা গাড়ি আটকিয়ে হুমকি দিচ্ছে এবং গণসংযোগে বাধা দিচ্ছে। মাকসুদের স্ত্রী ও নির্বাচনি এজেন্ট মোসা নার্গিস আক্তার সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী অঞ্জন দাস বলেন, বিএনপির কর্মীরা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলমান। 

নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে ‘সন্ত্রাসীদের দাপট চলছে’ বলে অভিযোগ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক বিএনপির সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুর।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মোল্লা অভিযোগ করেছেন, তার নারী কর্মীদের প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয়েছে এবং লাঞ্ছিত করা হয়েছে। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন এবং ঘটনার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী মাঠে প্রায় সব প্রার্থীর ভাষ্য এক—সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে লড়াই। তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, এসব সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিচ্ছে কে, তা নিয়েই নির্বাচনী আলোচনা এখন জোরদার।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়