ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে ভোগান্তিতে নগরবাসী
নারায়ণগঞ্জ শহরে দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে যানজটের সমস্যা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরের প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি ও ধীরগতির কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন নগরবাসী। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে মার্কেটগুলোতে কেনাকাটা করতে আসা লোকজন।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই তীব্র যানজট তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু সড়কের চাষাঢ়া, ২ নম্বর রেলগেইট, চাষাঢ়া, কালিরবাজার মোড়, ডিআইটি এলাকায় যানজটের মাত্রা তীব্র।
শহরের প্রধান সড়ক ও আশেপাশের সড়কগুলোতে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল, সড়ক ও ফুটপাতের অবৈধ দখল বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অপর্যাপ্ত সড়ক ব্যবস্থাপনা, মার্কেটগুলোর সামনে অবৈধ পার্কিং, সড়কের ওপর যাত্রী ওঠানামা, ফুটপাত দখল করে হকার বসা এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল যানজটের প্রধান কারণ। এর সঙ্গে শহরের বিভিন্ন স্থানে সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি ও নির্মাণকাজ চলায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে বলে জানান তারা।
সিটি বন্ধন পরিবহনের বাসচালক রাসেল বলেন, “এই যানজটের কারণে ভালো মানুষও অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় এক নম্বর রেলগেইট থেকে চাষাঢ়া আসতে এক ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগে। ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলও যানজট বাড়াচ্ছে।”
মিশুকে থাকা যাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস ঝিনুক বলেন, “মুক্তাপুর ব্রিজ থেকে দুপুর সাড়ে ১২টায় রওনা দিয়েছি। এখন বিকেল ৩টা বাজে, এখনও বাসায় পৌঁছাতে পারিনি। রমজান মাসেও এমন জ্যামে পড়তে হচ্ছে।”
শহরে যানজট নিরসনে দায়িত্ব পালন করা স্বেচ্ছাসেবক জোবায়ের সিফাত বলেন, শহরে মিশুক প্রবেশ এবং মানুষের অতিরিক্ত চাপও যানজট বাড়াচ্ছে। তিনি জানান, শহরের বেশিরভাগ মার্কেটের নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় ক্রেতারা সড়কের পাশেই যানবাহন রেখে দেন, ফলে সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়ে।
নগরবাসীর দাবি, দীর্ঘদিনের এ সমস্যা সমাধানে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ ও কঠোর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জরুরি। দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে শহরের যানজট পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।





































