শুভ’র জন্য শুভকামনা
শুভ ২০০৫ সালের ১৬ জানুয়ারি বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল। বিপ্লব করে দেশটা বদলে দেবে বলে। সে জেনেছে বিপ্লব ছাড়া মুক্তি আসবে না। পুরো নাম অনিন্দ চক্রবর্তী শুভ। অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। নারায়ণগঞ্জের আইইটি সরকারি স্কুল থেকে এসএসসি ও নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য পরীক্ষা দিয়েছিল। এন্থ্রোপলজি, আরকিওলজি, নাট্যকলা- সবকটিতেই ভর্তির সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া আর হলো না।
ছাত্র ইউনিয়ন করতো। নতুন সমাজের স্বপ্ন দেখতো। পাঠ্য-পুস্তকের বাইরে বিপ্লবীদের বই পড়তো। সমাজ বদলের তীব্র আকাঙ্ক্ষা পেয়ে বসেছিল তাকে। সে জেনেছিল বিপ্লব ছাড় মুক্তি নেই। তাই বিপ্লবী সংগঠন খুঁজতো। কারণ সে বুঝেছে ছাত্র ইউনিয়ন দিয়ে বিপ্লব হবে না। আর তাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফল প্রকাশের পাঁচদিন আগে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে গেল।
শুভ’র জন্ম ১৯৮৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর। নারায়ণগঞ্জের রথীন চক্রবর্তী ও লক্ষ্মী চক্রবর্তীর একমাত্র পুত্র শুভ। বাবা মা উভয়েই সমাজটাকে নিষ্কলুষ-বাসোপযোগী করার ব্রতে নিয়জিত। নানাহ সংগঠনের সাথে জড়িয়ে পুত্র-শোক ভুলে থাকার চেষ্টা করেন। এখনো অপেক্ষায় আছেন শুভ হয়তো ফিরে আসবে। হয়তো আসবে, অথবা আর কখনো আসবে না! কিন্তু এ প্রতীক্ষা মৃত্যুর চেয়েও ভয়ঙ্কর! এর কোন সান্ত্বনা নেই, উত্তর নেই। আমরা একুশ বছর অপেক্ষায় আছি। “যে যায় সে চলে যায়, যারা আছে তারাই জেনেছে/ একা একা হাহাকার.../। যে যায় সে চলে যায়, যারা আছে তারাই জেনেছে বাঁ-হতেরে উল্টোপিঠে কান্না মুছে হাসি আনতে হয়।”
তবুও আমরা আশায় বুক বেঁধে থাকি শুভ ফিরে আসবে, এক দিন ফিরে আসবে। আশা ছাড়া যে বাঁচা যায় না। শুভ যেখানেই থাকুক ভালো থাকুক। শুভ’র জন্য শুভকামনা।





































