২৮ মার্চ ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২০:১১, ২৮ মার্চ ২০২৬

গান্ধী পোকাদের দৌরাত্ম্য, সরকারের বদনাম করে: সাখাওয়াত

গান্ধী পোকাদের দৌরাত্ম্য, সরকারের বদনাম করে: সাখাওয়াত

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, “আমি খাল পরিষ্কার ও খনন কার্যক্রম শুরু করেছি। সেটা করার সময় ‘গান্ধী পোকার’ ফোন এসেছে—এটা আপনি কেন করেন? রেলওয়ের জায়গায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার অধিকার সিটি কর্পোরেশনের আছে। রেলওয়ে যদি কোনো জায়গায় পরিবেশ দূষণ করে, সে ক্ষেত্রেও তাদেরকে আইনের আওতায় আনার ক্ষমতা সিটি কর্পোরেশনের রয়েছে। আমি আইন জানা লোক। তোমরা যদি এ ব্যাপারে আমাকে অসহযোগিতা করো, আমি সরাসরি সংশ্লিষ্ট জায়গায় জানিয়ে দেব। পরে সব চুপ হয়ে গেছে। কোনো গান্ধী পোকা কাজ করতে পারবে না। কারণ গান্ধী পোকারা দলের বদনাম করে, সরকারের বদনাম করে।”

শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে নগর ভবনের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, “সরকার চায় না এই গান্ধী পোকাদের গন্ধে সরকার কলুষিত হোক। সরকার চায় সকল নাগরিকের সমান অধিকার ও সমান উন্নয়ন। আমি সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে যতদিন আছি, দল-মত দেখব না। কোনো ব্যক্তিকে প্রাধান্য দেব না, সমষ্টিকে প্রাধান্য দেব। জনগণের স্বার্থকেই বড় করে দেখব।”

সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, “আমাকে এখানে বসানো হয়েছে নারায়ণগঞ্জের দৃশ্যমান পরিবর্তনের জন্য। সেই পরিবর্তন যদি আমি করতে না পারি, তাহলে এখানে থাকার কোনো কারণ নেই। আমাকে পরিবর্তন দেখাতে হবে। সে লক্ষ্যে আমি বেশ কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সময়সাপেক্ষ। হকার সমস্যা ও অটোযানজনিত যানজট সমস্যা ইনশাআল্লাহ সমাধান করব—আপনাদের নিয়ে, নারায়ণগঞ্জবাসীকে সঙ্গে নিয়ে। এখানে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে আমরা কাজ করব এবং নগরবাসীকে কিছুটা স্বস্তি দেব। এটাকে যুদ্ধ বলতে চাই না; যারা বসে, তাদের বোঝানো হবে। প্রয়োজনে কয়েকদিন মাইকিং করা হবে, যাতে কেউ না বসে। আমরা কাউকে প্রতিপক্ষ করতে চাই না।”

তিনি আরও বলেন, “গতকাল সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকায় একটি রাস্তা পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। সেখানে রাস্তার পাশে শত শত গ্যাস সিলিন্ডার ও বড় বড় ফার্নিচারের দোকান বাইরে মালামাল স্তুপ করে রেখেছে। আমি এত সহজে ছেড়ে দেওয়ার লোক নই। ঈদের আগে তাদের ডেকেছিলাম, বক্তব্য শুনেছি। ঈদ পর্যন্ত একটি সময়সীমা দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা তা মানেনি। তারা যেহেতু আমার সিদ্ধান্ত মানেনি, এখন তাদের সিদ্ধান্ত মানার কোনো কারণ নেই। এখন আপনাদের মাধ্যমে—কারণ আপনারাই পারেন জনগণকে সচেতন করতে। আপনারা লিখনীর মাধ্যমে, পত্রিকার মাধ্যমে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করুন, যাতে এই দুটি বিষয়ে সবাই একমত হয়। সমস্যাটি আমার একার নয়; এটি নারায়ণগঞ্জবাসীর সবার। তাই সমাধানে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”

নাসিক প্রশাসক বলেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে নারায়ণগঞ্জ শহরের ২০টি মাদকের স্পটের কথা বলেছিলেন। এর মানে তিনি শহরের এ টু জেড সব বিষয়ে অবগত। তিনি আমাকে নির্দিষ্টভাবে বলেছেন, এসব সমস্যা সমাধান করতে হবে। তার মধ্যে প্রথমেই বলেছেন এই দুইটি সমস্যা—যানজট ও শৃঙ্খলা। নারায়ণগঞ্জের যানজটের বিষয়টি তিনি জানেন। তাই আমি যদি এটি সমাধান করতে না পারি, তাহলে সেটি আমার ব্যর্থতা। আমি চেষ্টা চালিয়ে যাব, আপনাদের সবার সহযোগিতা চাই।”

সভায় নাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. নূর কুতুবুল আলম, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাউদ মাসুদ, সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন পন্টি, সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাসুম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আজগর হোসেনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
 

সর্বশেষ

জনপ্রিয়