নাসিকে রাজনৈতিক নেতারা: জনবান্ধব কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার আশ্বাস
নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দর সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে নগরভবনের সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
নাসিক প্রশাসকের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নাসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নূর কুতুবুল আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আজগর হোসেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, আমরা নারায়ণগঞ্জবাসীর সভাপতি নূর উদ্দিন, আইনজীবী সমিতির সভাপতি সরকার হুমায়ুন কবির, ইসলামী আন্দোলন মহানগরের সভাপতি মুফতি মাসুম বিল্লাহ, গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়কারী তারিকুল সুজনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।
সভায় নেতৃবৃন্দ নারায়ণগঞ্জ শহরের নানাবিধ সমস্যা, বিশেষ করে শহরের নিত্য যানজট ও হকার সমস্যার বিষয়ে আলোচনা করেন। একই সঙ্গে তারা সদ্য গঠিত নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সক্রিয় করা, নাসিকের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নত করা, নারায়ণগঞ্জকে বিশেষ জেলার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া এবং মেট্রোপলিটন পুলিশের আওতায় আনার দাবি জানান।
সভায় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি শহরের খানপুরে টার্মিনাল পোর্ট নির্মাণ কাজের বিষয়ে আপত্তি তোলেন। তিনি বলেন, খানপুরে পোর্ট নির্মাণ হলে চাষাঢ়া ‘কোলাপস’ করবে। একই সঙ্গে তিনি শহরের বালুর মাঠে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নির্মাণাধীন ভবন এবং রেলওয়ের জমিতে নির্মাণাধীন মার্কেট বিষয়ে নাসিকের আইনি লড়াই সম্পর্কে জানতে চান।
সভায় এমপি আবুল কালাম নাসিক প্রশাসককে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, “আমরা অনেক দিন যাবত চাচ্ছিলাম এমপি এবং সিটি কর্পোরেশনের পারস্পরিক সম্পর্কের স্তর দৃঢ় হোক। আজকে আমার উপস্থিতির কারণ প্রশাসক মহোদয়কে সহযোগিতা করার জন্য আশ্বস্ত করা। আমি আপনার পাশে আছি। আমি এমন পরিবেশে প্রথমবার আসলাম। কারণ এই ধরনের পরিবেশ আমি কখনো প্রত্যাশা করি নাই। বর্তমান সরকারের অধীনে ইনশাল্লাহ আমরা শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণে থাকব।”
সভাপতির বক্তব্যে প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান দিগুবাবুর বাজার, যানজট ও হকার বিষয়ে কথা বলেন। হকারদের বিষয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, “চাষাঢ়ায় হকারদের মার্কেট দেওয়া হয়েছে। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি, যাদের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল তারা এখন আর নেই। সবাই বিক্রি করে চলে গেছে। এটার বিধান নেই। আমি আশ্বস্ত করতে চাই, প্রথম যারা নিয়েছিল তারা যদি না থাকে তাহলে আমি এগুলো উচ্ছেদ করে দেব। শেড ভেঙে দেব।”
তিনি আরও যোগ করেন, ঈদের পর যানজট ও হকার সমস্যা সমাধানে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হবে এবং আবারও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে নিয়ে মতবিনিময় সভা করবেন।





































