০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ:

প্রকাশিত: ২০:০১, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নারী ভোটাররা চান নিরাপত্তা, অধিকার ও কর্মসংস্থান

নারী ভোটাররা চান নিরাপত্তা, অধিকার ও কর্মসংস্থান

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারী ভোটারদের রাজনৈতিক সচেতনতা ও অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পরিবার, সমাজ ও কর্মক্ষেত্রে নিজের অবস্থান শক্ত করতে নারীরা এখন ভোটকে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন। ফলে এবারের নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের হিসাব নির্ধারণে নারীরাই হয়ে উঠছেন অন্যতম প্রধান শক্তি।

নারী ভোটারদের প্রত্যাশা কেবল ব্যক্তিগত অধিকার প্রতিষ্ঠার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং গণতন্ত্র, সামাজিক নিরাপত্তা ও সামগ্রিক উন্নয়নের সঙ্গে তা গভীরভাবে সম্পৃক্ত। নির্বাচনী মাঠে প্রার্থীরাও তাদের ইশতেহার ও কর্মসূচিতে নারীদের চাওয়া-পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরছেন ভোটার আকর্ষণের কৌশল হিসেবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নারীদের মধ্যে নাগরিক দায়িত্ববোধ আরও দৃঢ় করেছে। ফলে এবার তারা আবেগ নয়, বরং যুক্তি ও নীতিনির্ভর সিদ্ধান্তে ভোট দেবেন।

এ বিষয়ে গৃহিণী ইশরাতুল তিফা বলেন, “আমরা শুধু উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি শুনতে চাই না, আমরা নিরাপদ জীবন চাই। রাতে বাইরে গেলে ভয় থাকবে না, মেয়েরা নিশ্চিন্তে স্কুলে যেতে পারবে—এই নিশ্চয়তা চাই। ভোট দেওয়ার সময় আমি দেখব, কারা এসব বাস্তবায়ন করতে পারবে।” তিনি বলেন, নারীদের কর্মসংস্থান ও স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে আগ্রহী প্রার্থীই তাদের পছন্দ।

সোনারগাঁয়ের নারী অধিকারকর্মী সানজানা বর্ষা বলেন, “নারীরা আর শুধু সংসারে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না, তারা নিজের পরিচয়ে কাজ করতে চায়। তবে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত না হলে তা সম্ভব নয়।” তার মতে, পোশাকশিল্প, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও হস্তশিল্পে যুক্ত নারীদের ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি মেয়েদের পড়াশোনা বজায় রাখা, কারিগরি শিক্ষার প্রসার এবং মাতৃস্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে জনপ্রতিনিধিদের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।

শিক্ষিকা নাভানা জেসমিন বলেন, “অনেকদিন পর ভোট দেওয়ার সুযোগ এসেছে। এই সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত নয়। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে—দেশের ভবিষ্যতের কথা ভেবে।” তিনি আরও বলেন, “অনেক ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া এই দেশ যেন আমাদের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে দায়িত্ব আমাদের সবার।”

আরেক নারী ভোটার কেয়া দাস বলেন, “আমি এমন প্রার্থীকে ভোট দিতে চাই, যিনি আমাদের এলাকার উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও নারীর অধিকারকে গুরুত্ব দেন। যিনি সৎ, দায়িত্বশীল এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা বোঝেন।” তার মতে, নারীদের স্বাধীন চলাচল, নিরাপদ পরিবেশ, শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে সমতা নিশ্চিত করতে সক্ষম নেতৃত্বই সময়ের দাবি।

কলেজ রোডের বাসিন্দা শিক্ষার্থী ইশরাফ নিঝুম বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধান প্রত্যাশা হলো অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি নয়, বরং ভোটকেন্দ্রে ভয়মুক্ত পরিবেশ, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছ ভোট গণনার মাধ্যমে যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচনই এখন নারীদের চাওয়া।

সবমিলিয়ে নারী ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের জায়গা হিসেবে উঠে এসেছে নিরাপত্তা, চলাচলের স্বাধীনতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থান। এসব ইস্যুই এবারের নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্লেষকদের মতে, নারীরা এখন কেবল ভোটার নন; তারা নীতিনির্ধারক শক্তিতে পরিণত হয়েছেন। মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক নারী হওয়ায় অনেক আসনে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান নির্ধারণ করবে তাদের ভোট। সচেতন ও সংগঠিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে নারী ভোটাররা শুধু একজন প্রার্থী নয়, বরং একটি নীতিগত অবস্থানকেই নির্বাচিত করবেন।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়