২৯ জানুয়ারি ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ:

প্রকাশিত: ১৮:৪৯, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ-১

সহজ জয়ের পথে দিপু

সহজ জয়ের পথে দিপু

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একাধিক প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই এলাকায় প্রচার-প্রচারণা জোরদার হয়েছে। তবে প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হলেও ভোটের মাঠে বাস্তব প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলত বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে বলে অভিমত স্থানীয় রাজনীতিক ও বিশ্লেষকদের। 

এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক মো. দুলাল জাহাজ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আনোয়ার হোসেন মোল্লা দাঁড়িপাল্লা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ইমদাদুল্লাহ হাতপাখা, সিপিবির মনিরুজ্জামান চন্দন কাস্তে, গণঅধিকার পরিষদের ওয়াসিম উদ্দিন ট্রাক এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. রেহান আফজাল আপেল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

তবে প্রার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হলেও অধিকাংশ প্রার্থীর সংগঠিত ভোটব্যাংক নেই। ফলে মাঠের সমীকরণে তাদের প্রভাব সীমিত বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এতে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু। 

দুলাল বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা ছিলেন তবে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয় । এতে দলীয় পর্যায়ে তার পরিচিতি থাকলেও স্বতন্ত্র হিসেবে তাঁর নিজস্ব ভোটভিত্তি কতটা শক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলীয় সাংগঠনিক শক্তি ও মাঠের কর্মী-সমর্থকদের বড় অংশ এখনো দিপুর পক্ষেই সক্রিয়।

মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় এলাকায় তার ব্যাপক প্রভাব ও পরিচিতি রয়েছে। বিএনপির স্থানীয় ইউনিটগুলো তার পক্ষে মাঠে নেমেছে। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা নিয়মিত প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন তার পক্ষে। যা ভোটের মাঠে তার অবস্থানকে শক্তিশালী করে তুলেছে। 

স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা সবাই দিপুর পক্ষে কাজ করছেন। তাদের মতে, দলীয় প্রতীক ও সাংগঠনিক কাঠামোই এই আসনে দিপুর বড় শক্তি। তাছাড়া দিপুর রয়েছে এলাকায় ব্যাপক কর্মী-সমর্থক। 

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মোল্লা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রচারণা চালালেও এলাকায় দলটির সাংগঠনিক তৎপরতা তুলনামূলক সীমিত। তাছাড়া দশ দলীয় জোটের সমর্থন রয়েছে তার। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. ইমদাদুল্লাহ হাতপাখা প্রতীকে মাঠে থাকলেও তার প্রচারণা মূলত অনুসারী ভোটারদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তবে তিনিও প্রচারণা চালাচ্ছেন। 

সিপিবির প্রার্থী মনিরুজ্জামান চন্দন কাস্তে প্রতীকে নির্বাচন করলেও তার দলীয় প্রভাব বা কর্মী সমর্থম এলাকায় বিস্তৃত নয়। একইভাবে গণঅধিকার পরিষদের ওয়াসিম উদ্দিন ট্রাক প্রতীক এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. রেহান আফজাল আপেল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তাদের ভোটভিত্তি সীমিত বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সবকিছু মিলে সহজ সমীকরণ থাকলেও দিপু প্রচারণায় সক্রিয় রয়েছেন এবং চেষ্টা করছেন সর্বোচ্চ ভোট পাওয়ার। তিনি নিয়মিত গণসংযোগ করছেন পাড়া-মহল্লা ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পথসভা করছেন। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় তার কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় ভোটারদের ভাষ্য, একাধিক প্রার্থী থাকলেও মূল লড়াইটা একজনকেই ঘিরে। অন্যরা প্রচারণা চালালেও তেমন প্রভাব ফেলতে পারছে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপির প্রার্থী দিপু মাঠের রাজনীতির সমীকরণে এগিয়ে রয়েছেন। দলের সাংগঠনিক শক্তি, পরিচিতি এবং মাঠে সক্রিয় উপস্থিতিই তাকে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী দুলাল দলীয় পরিচয়ের কারণে আলোচনায় থাকলেও তার আলাদা ভোটভিত্তি এখনো স্পষ্ট নয়।

তবে শেষ পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতি ও ভোটের দিন পরিস্থিতির ওপরই ফল নির্ভর করবে। নির্বাচনের দিন ভোটাররা যে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটিই নির্ধারণ করবে এই আসনের ভাগ্য। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মাঠের হিসাব অনুযায়ী বিএনপির প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুই প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় বহুদূর এগিয়ে রয়েছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়