সন্ত্রাসীদের সঙ্গে প্রশাসনের বোঝাপড়া হয়েছে কি না, প্রশ্ন আল আমিনের
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জামায়াত সমর্থিত জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টির মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন অভিযোগ করেছেন, পঞ্চবটিতে ব্যানার লাগাতে গিয়ে তাঁর নেতাকর্মীদের অস্ত্রের মুখে হুমকি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচন সামনে রেখেও সন্ত্রাসী তৎপরতা থামেনি এবং প্রশাসন এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখছে না।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে ফতুল্লা ইউনিয়নের দাপা এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগকালে এসব কথা বলেন অ্যাডভোকেট আল আমিন।
তিনি বলেন, “গতকাল রাতে পঞ্চবটিতে আমাদের ব্যানার লাগাতে গিয়ে নেতাকর্মীদের অস্ত্র ঠেকানো হয়েছে। ৫ আগস্টের পরেও যারা জয় বাংলা বলেছে, তারাই এখন প্রার্থী হয়ে তাদের লোকজন দিয়ে অস্ত্র ঠেকাচ্ছে।”
এলাকার পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ১৫–১৬ বছর ধরে যাঁরা এই এলাকার মানুষকে জিম্মি করে চাঁদাবাজি করেছে এবং গার্মেন্টস পোড়ানোর সঙ্গে জড়িত ছিল, তারাই এখন আবার হুমকি দিচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, মহিলা সংগঠক ও কর্মীদের উদ্দেশে বলা হচ্ছে—‘দেইখা নিবো, কেমনে ভোট করোস।’ তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা ও অবহেলার বহিঃপ্রকাশ।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আল আমিন বলেন, নারায়ণগঞ্জ একটি ঝুঁকিপূর্ণ ও সন্ত্রাসপ্রবণ এলাকা হওয়া সত্ত্বেও বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। “প্রশাসন কেন নীরব—সন্ত্রাসীদের সঙ্গে কোনো বোঝাপড়া হয়েছে কি না, তা রিটার্নিং অফিসার ও পুলিশ প্রশাসনকে স্পষ্ট করতে হবে,” বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের কাছে মৌখিক ও লিখিতভাবে অভিযোগ জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
অভিযোগ করে তিনি বলেন, ওয়ারেন্টভুক্ত হত্যা মামলার আসামিরা কীভাবে ভোট চাইছে এবং একজন চেয়ারম্যান কীভাবে প্রকাশ্যে প্রচারণা চালাচ্ছেন—এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। “নৌকার যে চেয়ারম্যান নির্বাচন সামনে রেখে পালিয়ে গিয়েছিল, সে কীভাবে আবার সামনে আসে, কে তাকে নিরাপত্তা দেয়—এ বিষয়ে প্রশাসনকে জবাব দিতে হবে,” বলেন আল আমিন।
তিনি বলেন, যারা সন্ত্রাস, অস্ত্র ও হুমকি দিয়ে ভোটের মাঠ নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, তাদের উদ্দেশে বার্তা হলো—নারায়ণগঞ্জে অতীতে বড় বড় গডফাদারদের জনরোষে পালাতে হয়েছে। জনগণ এখন ঐক্যবদ্ধ। জনগণ প্রতিরোধে নামলে পালানোর জায়গা থাকবে না।
গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক নিরব রায়হান, জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক মাহফুজ খান, মহানগর ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব জহিরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা।





































