নেতার বক্তব্য শুনতে রাতভর অপেক্ষা কর্মী-সমর্থকদের
বিকেল থেকে দলে দলে মিছিল নিয়ে জনসভায় যোগ দেওয়া শুরু করেন নেতা, কর্মী ও সমর্থকরা। রাত বাড়তে থাকলে এ উপস্থিতিও বাড়তে থাকে।
নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরের বালুর মাঠে করা হয়েছিল অস্থায়ী মঞ্চ। সেখানে বক্তব্য রাখার কথা দলের প্রধানের। রাতভর ছিল কেবল তাঁকে এক নজর দেখা আর বক্তব্য শোনার অপেক্ষা। রাত জাগার ক্লান্তি থাকলেও নেতার বক্তব্য শোনার উত্তেজনায় তার কোনো প্রভাব পড়েনি।
রাত দশটার দিকে সভামঞ্চ থেকে অন্তত ৫০০ গজ দূরে ৫৬ বছর বয়সী আলী আশরাফের রেস্তোরাঁয় তখন অনেক ভীড়। কিন্তু আশরাফ সাংবাদিকদের বলছিলেন, “তারেক রহমান আসার আগেই রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেবো। জিয়াউর রহমানকে আমি পছন্দ করি। তাঁর ছেলের বক্তনব্যটা সামনাসামনি শুতে চাই।”
সকলের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাত দুইটার দিকে মঞ্চে ওঠেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে কাঁচপুর বালুর মাঠটি তখন দলীয় হাজারো কর্মী-সমর্থকে ভরপুর। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরি করাতে সকলের উদ্দেশ্যে ক্ষমা চান। নেতারা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লার কয়েকটি স্থানে টানা জনসভায় যোগ দিয়ে কাঁচপুরের এ কর্মসূচিতে যোগ দেন তারেক। তাকে বহন করা “সবার আগে বাংলাদেশ” লেখা বাসটি থামার সাথে সাথেই স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত করে তোলেন কর্মী-সমর্থকরা। হাতে তাদের প্ল্যাকার্ড-ফেস্টুন।
মঞ্চে রাখা বক্তব্যে তারেক রহমান নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে দলীয় ও জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। ৩১ দফা কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন। নারায়ণগঞ্জের সংকট মাদক ও সন্ত্রাসের কথা উল্লেখ করে ভবিষ্যতে তা সমাধানেরও আশ্বাস দেন।
নারায়ণগঞ্জে অন্তত বিশটি স্পটে মাদকের বিক্রি হয়, এ তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, গত দেড় দশকে এই এলাকায় বহু বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল হয়েছে। সন্ত্রাসী অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে শহরের চিহ্নিত মাদক স্পটগুলো নির্মূল এবং দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা হবে।
স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা বলেন, প্রথমবারের মতো কাঁচপুরে এলেন তারেক রহমান। তাকে সরাসরি এক নজর দেখতে এবং বক্তব্য শোনার জন্য আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন তারা। নারায়ণগঞ্জের সংকটগুলোকে তিনি যেভাবে উল্লেখ করেছে সেটি আন্দোলিত করেছে তাদের।
সিদ্ধিরগঞ্জের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কবির হোসেন। বিএনপির এ কর্মী বলেন, “রাতভর আমরা অপেক্ষা করেছি কেবল দলের সর্বোচ্চ নেতার বক্তব্য শোনার জন্য। তার মার্জিত ও মানবিক বক্তব্য আমাদের সবার মন জয় করে ফেলেছে। তিনি নারায়ণগঞ্জের মাদকের স্পটগুলোর তথ্যও জানেন এবং সংখ্যায় তা উল্লেখ করেছেন। এর মানে তিনি শুধু সেন্ট্রালের না, আমাদের খবরও রাখেন।”
দলের প্রধান অঞ্চল-ভিত্তিক সমস্যা সমাধানের কথাগুলো নেতা-কর্মীদের আলাদাভাবে উজ্জীবিত করেছে বলেও যোগ করেন কবির।
সোনারগাঁ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম রাজ বলেন, দলের চেয়ারম্যান তাঁর পিতা জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনার কথা বলেছেন। ঐতিহাসিকভাবে আলোচিত সোনারগাঁয়ে এ ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা গেলে স্থানীয়রাও উপকৃত হবেন।
“চেয়ারম্যান যেভাবে স্থানীয় বিষয়গুলো অ্যাড্রেস করেছেন, সেটি আমার কাছে ভালো লেগেছে। রাতভর ক্লান্তি থাকলেও নেতার বক্তব্য আমাদের উজ্জীবিত করেছে।”
প্রায় ১৫ মিনিট বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান। এ জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ।
সঞ্চালনায় ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব।





































