১৩ জানুয়ারি ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২২:০৩, ১২ জানুয়ারি ২০২৬

আকিজ সিমেন্টে বিস্ফোরণ: আহতদের খোঁজ নিতে বার্ন ইউনিটে তারিকুল

আকিজ সিমেন্টে বিস্ফোরণ: আহতদের খোঁজ নিতে বার্ন ইউনিটে তারিকুল

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় আকিজ সিমেন্ট কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে দগ্ধ শ্রমিকদের খোঁজখবর নিতে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ছুটে গেছেন গণসংহতি আন্দোলন মনোনীত নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী তারিকুল ইসলাম (সুজন)।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় তিনি হাসপাতালে পৌঁছে দগ্ধ শ্রমিকদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং চিকিৎসা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হন।

এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার যুগ্ম সমন্বয়কারী আলমগীর হোসেন আলম, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের নারায়ণগঞ্জ জেলার সাবেক সভাপতি ফারহানা মানিক মুনা, ছাত্র ফেডারেশন ঢাকা মহানগর কমিটির সদস্য রিফাত হাসানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

হাসপাতালে তারিকুল ইসলাম কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমানের সঙ্গে দগ্ধ শ্রমিকদের চিকিৎসা অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পাশাপাশি যে ফ্লোরে শ্রমিকরা চিকিৎসাধীন, সেই ফ্লোরের ইনচার্জ আশিক আহমেদের কাছ থেকেও চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত হন। পরে তিনি আহত শ্রমিকদের স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের খোঁজখবর নেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

তারিকুল ইসলাম (সুজন) বলেন, “চিকিৎসক ও শ্রমিকদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে এটা স্পষ্ট হয়েছে, আকিজ সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ নামমাত্র সরকারি চিকিৎসার দায় দেখিয়ে তাদের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব এড়াতে পারে না। দগ্ধ শ্রমিকদের জীবন নিয়ে যে চরম অবহেলা করা হয়েছে, তা একটি পরিকল্পিত করপোরেট অপরাধের বহিঃপ্রকাশ।”

তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই বন্দরের মানুষ আকিজের নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও জনভোগান্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার। আকিজ কর্তৃপক্ষ কিছু প্রভাবশালী পরিবারকে আর্থিক সুবিধা দিয়ে প্রশাসন ও পরিবেশকে জিম্মি করে রেখেছে। সেই গাফিলতি ও লোভেরই পরিণতিতে গত ১১ জানুয়ারি কারখানার হিট এক্সচেঞ্জার মেশিন বিস্ফোরিত হয়ে আটজন শ্রমিক গুরুতরভাবে দগ্ধ হন।”

তারিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “আকিজ ফিডের তীব্র দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে ২৩ নম্বর ওয়ার্ডবাসী দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা প্রমাণ করে তারাও এই অনিয়মের সুবিধাভোগী। এই নীরবতা শ্রমিকদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “দগ্ধ শ্রমিকদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব আকিজ কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে, উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং কারখানার সব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। শ্রমিকের জীবন সস্তা নয়। মুনাফার লোভে আর কোনো শ্রমিককে আগুনে পুড়তে দেওয়া যাবে না।”

তিনি জানান, এই ঘটনার প্রতিবাদে গণসংহতি আন্দোলন রাজপথে এবং রাষ্ট্রের সব স্তরে আন্দোলন অব্যাহত রাখবে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়