১৪ জুন ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৯:৪০, ১৪ জুন ২০২৬

আপডেট: ১৯:৫৯, ১৪ জুন ২০২৬

মেডিকেল কলেজ ও সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল নির্মাণের দাবি কালামের

মেডিকেল কলেজ ও সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল নির্মাণের দাবি কালামের

নারায়ণগঞ্জে একটি মেডিকেল কলেজ ও বিশেষ বিশেষায়িত (সুপার স্পেশালাইজড) হাসপাতাল নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম।

রবিবার (১৪ জুন) সকালে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে ১০ শয্যার আইসিইউ কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের কাছে এ দাবি জানান।

আবুল কালাম বলেন, “নারায়ণগঞ্জের জন্য মেডিকেল কলেজ বরাদ্দ হয়েছে। শুধু ভূমি অধিগ্রহণ বাকি। সদর ও বন্দর এলাকায় পর্যাপ্ত জমি রয়েছে। সরকারের সদিচ্ছা থাকলেই এটি দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব।”

এছাড়া দীর্ঘ চার বছর ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা আইন মন্ত্রণালয়ের ১০তলা জুডিসিয়াল ভবনে অস্থায়ীভাবে মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম শুরু করতে ব্যবহার করা যেতে পারে বলেও প্রস্তাব এ সংসদ সদস্য।

এজন্য আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন বলেও মন্ত্রীকে  জানান তিনি।

এমপি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জে ইতোমধ্যে ৩০০ শয্যার স্পেশালাইজড হাসপাতাল রয়েছে। তবে তিনি ‘সুপার স্পেশালাইজড’ হাসপাতাল চান, যেখানে পূর্ণাঙ্গ সেবা থাকবে।

তিনি হাসপাতালের জনবল ঘাটতির চিত্র তুলে ধরে বলেন, “গাইনি, মেডিসিন, চক্ষু ও নাক-কান-গলা বিভাগে সিনিয়র কনসালট্যান্টের অভাব রয়েছে। চক্ষু বিভাগে চার বছর ধরে সিনিয়র কনসালট্যান্ট নেই। এছাড়া সহকারী সার্জন পদ খালি, অফিস সহায়ক ১৪ জন এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মী ১১ জনের ঘাটতি রয়েছে।”

আবুল কালাম আরও বলেন, “অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে আধুনিকায়ন করে পূর্ণাঙ্গ ইমার্জেন্সি ইউনিট হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে আইসিইউ সুবিধাসহ সব ফ্যাসিলিটি থাকে।”

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সে এক ইমার্জেন্সি রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি ডায়ালাইসিস সেন্টার দ্রুত চালু করা, আইসিইউ ইউনিটের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ কার্ডিয়াক সেন্টার (ক্যাথ ল্যাবসহ) স্থাপন এবং আইসিইউ চালুর জন্য রিয়েজেন্ট নিশ্চিত করার দাবি জানান।

হাসপাতালে বারবার চুরির ঘটনা উল্লেখ করে এমপি বলেন, নারায়ণগঞ্জ ও বন্দর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে আনসার সদস্য দ্রুত নিয়োগ করা প্রয়োজন।

তিনি মন্ত্রীর কাছে সদিচ্ছা কামনা করে বলেন, সরকার স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ০.৫ শতাংশ থেকে ১.১ শতাংশে বরাদ্দ বাড়িয়েছে, তাই অর্থের কোনো সমস্যা হবে না।

শেষে নিজেকে দায়ী করে এমপি আবুল কালাম বলেন, “আজকে যে অব্যবস্থাপনা দেখছেন, এর জন্য আমাকে দায়ী করুন। আমি গিল্টি প্লিড করছি।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, মন্ত্রীর সহযোগিতায় নারায়ণগঞ্জের তিনটি হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে এবং ছাত্রসমাজ ও জনগণ উপকৃত হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনডিএ) চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজীব, জেলা প্রশাসক রায়হান কবির, জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু প্রমুখ।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়