০৮ জুন ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২২:০১, ৮ জুন ২০২৬

বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধির প্রতিবাদে নিটিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের বৈঠক

বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধির প্রতিবাদে নিটিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের বৈঠক

সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির ফলে দেশের নিটিং শিল্পসহ সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যে সাময়িক স্থবীরতা দেখা দিয়েছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণ এবং উৎপাদন খাতকে টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে জরুরি সভা করেছে বাংলাদেশ নিটিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেওএ)। সভায় বক্তারা বিদ্যুৎ বিলের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে সরকারের নীতিগত সহযোগিতা কামনা করেন।

সোমবার (৮ জুন) বিকেওএ কার্যালয়ে সংগঠনের সভাপতি মো. সেলিম সারোয়ারের সভাপতিত্বে গুরুত্বপূর্ণ এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ী ও সংগঠনের নেতারা দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তারা জানান, বিদ্যুতের মূল্য বাড়ার কারণে উৎপাদন খরচ এক লাফে অনেক বেড়ে গেছে, যা তৈরি পোশাক খাতের প্রাথমিক স্তর তথা নিটিং শিল্পের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।

ব্যবসায়ী নেতারা উল্লেখ করেন, বিদ্যুৎ বিলের এই অস্বাভাবিক বোঝা বহন করতে গিয়ে শিল্প-প্রতিষ্ঠানগুলো এখন অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। বিশেষ করে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা (এসএমই) তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন। খরচ সামলাতে না পেরে অনেক কারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে, যা সামগ্রিক কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এই পরিস্থিতি বিবেচনায় সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিদ্যুৎ বিল পুনর্বিবেচনার জোরালো দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে শিল্পবান্ধব নীতি গ্রহণ এবং উৎপাদন খাতকে টিকিয়ে রাখতে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান ব্যবসায়ী নেতারা। সভায় শুধু ক্ষোভ প্রকাশ নয়, বরং ভবিষ্যতে ব্যবসায়ী ও শিল্প মালিকদের স্বার্থ সংরক্ষণে আইনি ও কৌশলগত কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া যায়, সে বিষয়েও বিস্তারিত ও গঠনমূলক আলোচনা করা হয়।

সভায় আরও উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও পরামর্শ প্রদান করেন বিকেওএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. জাকির হোসেন এবং সংগঠনের পরিচালকবৃন্দ।

সভা শেষে উপস্থিত সাধারণ সদস্যরা শিল্প উদ্যোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় এবং যেকোনো সংকটে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে শিল্পের সুরক্ষায় ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়েও সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়